চলতি মে মাসের প্রথম ৯ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে প্রবাসী আয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১০২ কোটি ৯০ লাখ বা ১ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ ১২ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা প্রায় (ডলার প্রতি ১২২.৭৫ টাকা হিসাবে)। প্রবাসী আয়ের এ ধারা অব্যাহত থাকলে আরেকবার সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করতে পারে চলতি মে মাস।
সাধারণত ঈদ-রোজার মতো উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। গত মার্চ মাসের ২০ তারিখ দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হয়। সে মাসে প্রবাসীরা দেশে ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন বা ৩৭৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এটিই প্রথম ও একমাত্র সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় অতিক্রমকারী মাস। চলতি মাসের ২৭ মে (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে) পবিত্র ঈদুল আযহা অনুষ্ঠিত হবে। এ মাসের প্রথম ৯ দিনে প্রবাসীরা প্রতিদিন গড়ে ১১ কোটি ৪৩ লাখ ডলার করে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন; যা গত মাসের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। এ ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে আবারও সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করবে প্রবাসী আয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত একক মাস হিসাবে ছয় বার ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রবাসী আয় এসেছে। গত বছরের মার্চ মাসে দেশে প্রথমবারের মতো বৈধ পথে ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন বা ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে আসে। পরবর্তীতে গত ডিসেম্বরে আসে ৩২২ কোটি ডলার। এরপর চলতি ২০২৬ সালের প্রথম মাস তথা জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি, মার্চে ৩৭৫ কোটি ও এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার প্রবাসী আয় আসে দেশে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে দেশে। যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৫ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ।
রেমিট্যান্সের এ প্রবাহের উপর ভিত্তি করে দেশের রিজার্ভের ভিতও মজবুত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশের বর্তমান গ্রস রিজার্ভ (১০ মে পর্যন্ত) ৩৪ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের হিসাবপদ্ধতি (বিপিএম৬) অনুযায়ী এটি ২৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।



















