রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের ১ হাজার ১৯৫টিরও বেশি সংবেদনশীল তথ্য ডার্ক ওয়েবে ছড়িয়ে পড়েছে। সাইবার থ্রেট ইন্টেলিজেন্স পর্যবেক্ষণে একাধিক ‘ডেটা ব্রিচ’ বা তথ্য চুরির অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ ই-মেইল সার্ভার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত তথ্যভান্ডার এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ডেটার প্রবেশাধিকার (এক্সেস) রয়েছে বলে জানা গেছে।
যুগান্তরের হাতে আসা বিভিন্ন স্ক্রিনশট এবং থ্রেট ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্মের তথ্যে দেখা যায়, টেলিটকের মূল ডোমেইন ‘teletalk.com.bd’-এর আওতায় ১ হাজার ১৯৫টিরও বেশি ‘ওপেন ডেটা ব্রিচ’ এবং প্রায় ১ হাজার ২০০টি ডোমেইনভিত্তিক তথ্য ফাঁসের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। শুধু তথ্য ফাঁস নয়, অন্তত ১৯টি পৃথক ঘটনায় হ্যাকাররা টেলিটকের পরিচয় ধারণ করে (ইমপারসোনেশন) বিভিন্ন হ্যাকিং কার্যক্রম চালিয়েছে। এমনকি চলতি বছরের এপ্রিলেও হ্যাকারদের সন্দেহজনক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
ডার্ক ওয়েব মার্কেটপ্লেস, হ্যাকার ফোরাম এবং এনক্রিপটেড টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলো মনিটর করা নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এ বিষয়ে জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ডেটা ব্রিচ রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটরের অভ্যন্তরীণ কারিগরি নিরাপত্তার চরম দুর্বলতাকেই নির্দেশ করছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেলিটকের মতো একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের তথ্য ফাঁস হওয়া কেবল প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। ফাঁস হওয়া প্রশাসনিক ডেটা ব্যবহার করে অপরাধীরা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সাইবার হামলা চালাতে পারে। এতে গ্রাহকদের আস্থার সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সক্ষমতাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে সাইবার অডিট এবং স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুলেছেন প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির (BTRC) সক্রিয় ভূমিকা এবং দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী না করলে দেশের টেলিযোগাযোগ খাত এক গভীর সংকটের মুখে পড়তে পারে।




















