মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতে সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম বিকাশে এক হাজার টাকা ক্যাশ আউট করলে গ্রাহকের কাছ থেকে কেটে নেওয়া হয় ১৮ টাকা ৫০ পয়সা। দীর্ঘদিন ধরেই গ্রাহকদের মধ্যে প্রশ্ন—এই অর্থ কোথায় যায়, কীভাবে ভাগ হয় এবং বিকাশ আসলে কত লাভ করে?
খাতসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি ও এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রাহকের দেওয়া পুরো ১৮ টাকা ৫০ পয়সা সরাসরি কোম্পানির আয় নয়। এর একটি বড় অংশ বিভিন্ন স্তরে কমিশন, ভ্যাট ও পরিচালন ব্যয়ে চলে যায়।
বর্তমানে বিকাশে এজেন্ট পয়েন্ট থেকে প্রতি এক হাজার টাকা ক্যাশ আউটের ক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছ থেকে ১৮.৫০ টাকা ফি নেওয়া হয়। এই অর্থের মধ্যে প্রথমেই এজেন্ট পর্যায়ে দুটি অংশ ভাগ হয়ে যায়।
এজেন্ট যখন একজন গ্রাহকের কাছে এক হাজার টাকা ‘ক্যাশ ইন’ করেন, তখন তিনি কমিশন হিসেবে পান প্রায় ৩ টাকা ৭৫ পয়সা। আবার গ্রাহক যখন সেই টাকা ‘ক্যাশ আউট’ করেন, তখন এজেন্ট আরও প্রায় ৪ টাকা কমিশন পান। অর্থাৎ এজেন্ট পর্যায়েই মোট ৭ টাকা ৫০ পয়সা চলে যায়।
এরপর অবশিষ্ট থাকে প্রায় ১১ টাকা। এই অংশ থেকেও সরকারকে ভ্যাট দিতে হয়। খাতসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি হাজার টাকায় সরকার প্রায় ৬ টাকা পর্যন্ত ভ্যাট পেয়ে থাকে।
ভ্যাট পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থের একটি অংশ যায় ডিস্ট্রিবিউশন বা পরিবেশক পর্যায়ে। এই খাতে প্রায় ২ টাকা পর্যন্ত কমিশন দেওয়া হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সব হিসাব শেষে কোম্পানির হাতে যে অর্থ থাকে, তা দিয়েই পরিচালনা করতে হয় প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রম। এর মধ্যে রয়েছে কর্মীদের বেতন-ভাতা, প্রযুক্তি অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ, সার্ভার ব্যয়, সাইবার নিরাপত্তা, কাস্টমার কেয়ার পরিচালনা, মার্কেটিং ও বিভিন্ন স্পন্সরশিপ কার্যক্রম।
বিকাশ দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং করপোরেট প্রচারণায় নিয়মিত স্পন্সর করে থাকে। পাশাপাশি সারা দেশে হাজার হাজার কাস্টমার কেয়ার ও এজেন্ট নেটওয়ার্ক পরিচালনায়ও বড় অঙ্কের ব্যয় হয়।
তবে গ্রাহক পর্যায়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে—ডিজিটাল লেনদেন বাড়ার পরও কেন ক্যাশ আউট খরচ কমছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমএফএস খাতে প্রতিযোগিতা বাড়লে এবং ডিজিটাল পেমেন্ট আরও বিস্তৃত হলে ভবিষ্যতে চার্জ কমার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে প্রতিদিন হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়। এর বড় অংশই ক্যাশ আউট নির্ভর হওয়ায় চার্জের বিষয়টি সাধারণ গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক আলোচনায় পরিণত হয়েছে।




















