রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরের করল্লা পাড়া এলাকায় একটি ইনভার্টার এসি মেরামত ও গ্যাস চার্জ করার সময় কম্প্রেসার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ‘হট অ্যান্ড কুল সলিউশন বাংলাদেশ’-এর একজন টেকনিশিয়ান গুরুতর আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ উপস্থিত অন্যরা।
জানা গেছে, করল্লা পাড়ার একটি বাসায় ‘হায়ার’ (Haier) ব্র্যান্ডের একটি ডিসি ইনভার্টার এসিতে অত্যন্ত দাহ্য ‘আর-৩২’ (R32) গ্যাস চার্জ করার সময় হঠাৎ করেই এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে ওই টেকনিশিয়ানের শরীর ও মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে দগ্ধ ও রক্তাক্ত হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
ভয়াবহ এই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে হট অ্যান্ড কুল সলিউশনের স্বত্বাধিকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, “আজ আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি বেঁচে ফিরেছি। হাইয়ার ডিসি ইনভার্টার এসিতে আর-৩২ গ্যাস চার্জ করার সময় এটি ব্লাস্ট হয়। আমার টেকনিশিয়ানের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। সব টেকনিশিয়ান ভাইয়েরা সাবধানে কাজ করুন।”
এই ঘটনার পর ঢাকার এসি টেকনিশিয়ান ও সার্ভিসিং সেক্টরে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রেফ্রিজারেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন প্রযুক্তির ইনভার্টার এসিগুলোতে ব্যবহৃত আর-৩২ (R32) গ্যাস অত্যন্ত দাহ্য (Flammable)। গ্যাস চার্জ করার সময় সামান্যতম লিকেজ, ভ্যাকুয়াম না করা অথবা ইলেকট্রিক স্পার্ক হলে এটি বোমা বা গ্রেনেডের মতো বিস্ফোরিত হতে পারে।
দুর্ঘটনার পর মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার টেকনিশিয়ানরা একাত্মতা প্রকাশ করে ‘R32’ গ্যাস সমৃদ্ধ এসি বর্জন বা বয়কটের ডাক দিয়েছেন। তাদের দাবি, কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং সুরক্ষাসামগ্রী না দিয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ এসিগুলো বাজারে ছাড়ছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ টেকনিশিয়ান ও গ্রাহকদের।
এসি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইনভার্টার এসির গ্যাস চার্জের সময় শতভাগ ভ্যাকুয়াম (Vacuum) নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। পাইপের ভেতর বাতাস বা আর্দ্রতা থাকলে এবং তার সাথে আর-৩২ গ্যাস ও হাই প্রেসার যুক্ত হলে এই ধরনের ‘কম্প্রেসার ব্লাস্ট’ ঘটে। যেকোনো এসির কাজ করার সময় টেকনিশিয়ানদের ফেস শিল্ড, গ্লাভস এবং সঠিক প্রেসার গেজ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




















