মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সংকট ও ব্যাটারির খরচ কমে আসায় বিশ্বজুড়ে ইভির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটির প্রতিবেদন বলছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে সাধারণ চালকরা এখন বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির দিকে ঝুঁকছেন। খবর এফটি।
আইইএর প্রধান জ্বালানি প্রযুক্তি কর্মকর্তা তৈমুর গুল জানান, সংকট থেকে গ্রাহক ও অর্থনীতিকে রক্ষা করতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে নীতিপ্রণেতারা এখন নতুন সুযোগ খুঁজছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশ এরই মধ্যে ইভি গাড়ির ওপর করছাড়ের মেয়াদ বাড়িয়েছে। আগামীতে অন্য দেশগুলোও এ পথ অনুসরণ করতে পারে।
আইইএ বলছে, ইউরোপের বাজারে ইভি ও হাইব্রিড গাড়ির প্রবৃদ্ধি এখন বেশ চোখে পড়ার মতো। চলতি বছর এ অঞ্চলে পরিবেশবান্ধব গাড়ির বিক্রি প্রায় ২০ শতাংশ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ইউরোপে বিক্রি হওয়া প্রতি তিনটি গাড়ির একটি হবে বিদ্যুচ্চালিত বা হাইব্রিড।
অন্যদিকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ২০২৬ সালে গাড়ি বিক্রির হার ৫০ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। পাশাপাশি লাতিন আমেরিকায়ও এ প্রবৃদ্ধির হার ৪৫ শতাংশ ছুঁতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
গত বছর বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বাড়ে। ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে মোট ২ কোটি ২০ লাখের বেশি ইভি বিক্রি হয়, যা ছিল মোট বিক্রির চার ভাগের এক ভাগ। আইইএর ধারণা, চলতি বছর এ বিক্রির সংখ্যা ২ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছবে।
বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির এ বিপ্লবের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে চীন। চীনের নিজস্ব বাজারে গাড়ি নির্মাতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা যায়। ফলে বিওয়াইডির মতো বড় চীনা কোম্পানিগুলো এখন রেকর্ড পরিমাণে গাড়ি রফতানি করছে। ২০২৫ সালে সারা বিশ্বে যত ইভি তৈরি হয়েছে, তার প্রায় ৭৫ শতাংশই এসেছে চীন থেকে।
চীনা গাড়ির রফতানির ওপর ভর করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজার দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। গত বছর এ অঞ্চলে ইভির বাজার হিস্যা ছিল প্রায় ২০ শতাংশ। ২০৩৫ সালের মধ্যে তা বেড়ে ৬০ শতাংশে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ সম্ভাবনার মাঝেও কিছুটা সতর্কবার্তা দিয়েছে আইইএ।
সংস্থাটি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, তা সামগ্রিক গাড়ি বিক্রির গতিকে কিছুটা ধীর করে দিতে পারে। পুরো পরিস্থিতি বুঝতে আরো কিছু সময় লাগবে।





















