২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) এ মুনাফা আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেশি। সম্প্রতি ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির ‘আর্নিংস ডিসক্লোজার’ সভায় এ আর্থিক ফলাফল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক রেফাত উল্লাহ খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সভায় উপস্থাপিত চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্র্যাক ব্যাকের সমন্বিত নিট মুনাফা ছিল ৪৮৬ কোটি টাকা। চলতি হিসাব বছরের একই সময়ে এ মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৬৯৬ কোটি টাকায়। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।
২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্র্যাক ব্যাংকের সমন্বিত রিটার্ন অন ইকুইটি (আরওই) দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং রিটার্ন অন অ্যাসেটস (আরওএ) ১ দশমিক ৭০ শতাংশ। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৯০ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এই ইপিএস ছিল ২ দশমিক শূন্য ২ টাকা। ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৬ টাকা ১২ পয়সায়, যা গত হিসাব বছরের ডিসেম্বরে ছিল ৫১ টাকা ৫৬ পয়সা।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্র্যাক ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ডিসেম্বরে ব্যাংকটির আমানত স্থিতি ছিল ৯৯ হাজার ৩৬ কোটি প্রায়। চলতি বছরের ৩১ মার্চ শেষে এ স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকায়। এ সময়ে ব্যাংকের বিনিয়োগও বেড়েছে ৭ দশমিক ২১ শতাংশ। ডিসেম্বরে ৪১ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা থেকে চলতি বছরের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৪ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকায়।
এক বছরের ব্যবধানে ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচালন মুনাফাও বেড়েছে ৪২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা ছিল ৮৫৫ কোটি টাকা। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক শেষে এ মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৫ কোটি টাকায়।
তবে আর্থিক মানদণ্ডের প্রায় প্রতিটি সূচকেই ব্র্যাক ব্যাংকের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হলেও ঋণ বিতরণ ও খেলাপি ঋণে ব্যাংকটির কিছুটা নেতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি ছিল ৭৩ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিক শেষে এ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৭০৯ কোটি টাকায়। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি কমেছে ১ দশমিক ৯৫ শতাংশ। একইভাবে খেলাপি ঋণের হার ২ দশমিক ২৭ থেকে বেড়ে ২ দশমিক ২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
সার্বিকভাবে ব্র্যাক ব্যাংকের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিকে প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও মানবসম্পদে পরিকল্পিত বিনিয়োগের ফল হিসেবে দেখছেন ব্যাংকটির এমডি ও সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান। তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালে ব্র্যাক ব্যাংক রেকর্ড আর্থিক সাফল্য অর্জন করেছে। এ ধারাবাহিকতা ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকেও বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছি আমরা। এটি আমাদের প্রতি গ্রাহক ও অংশীজনদের আস্থার প্রতিফলন। বছরের পর বছর ধরে ব্র্যাক ব্যাংক সুশাসন, কমপ্লায়েন্স ও টেকসই ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত করেছে। গ্রাহককেন্দ্রিক পণ্য, ডিজিটাল সক্ষমতা এবং বিস্তৃত সেবা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আমরা দেশের আরো বেশি মানুষকে ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনতে পেরেছি।’




















