কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শুধু নতুন প্রযুক্তিই নয়। ধীরে ধীরে এটি বদলে দিচ্ছে পুরো ইন্টারনেটের চেহারা। তথ্য খোঁজা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্য বহার, অনলাইন কে নাকাটা, সব ক্ষেত্রেই বাড়ছে এআইয়ের প্রভাব।
গুগলের মতে, এখন মানুষ আগের চেয়ে অনেক বড় ও জটিল প্রশ্ন করছে। এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর সরাসরি কোনো একটি ওয়েবসাইটে পাওয়া যায় না। তাই সার্চ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনছে প্রতিষ্ঠানটি।
সম্প্রতি গুগল জানিয়েছে, তাদের সার্চ ইঞ্জিনে এমন সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে, যা ব্য বহারকারীর প্রশ্নের ভিত্তিতে নিজেই গ্রাফিকস, চার্ট, এমনকি ছোটখাটো অ্যাপও তৈরি করতে পারবে। এসব তথ্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করে উপস্থাপন করা হবে।
বদলে যাচ্ছে সার্চ করার অভ্যাস
একসময় মানুষ গুগলে দুই-তিনটি শব্দ লিখে তথ্য খুঁজত। এখন অনেকেই পুরো বাক্য বা প্রশ্ন লিখে সার্চ করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চ্যাটজিপিটির মতো এআই চ্যাটবট জনপ্রিয় হওয়ার পর মানুষের সার্চ করার ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। ব্য বহারকারীরা এখন গুগলেও অনেকটা চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলার মতো করে প্রশ্ন করছেন।
গুগলের তথ্য অনুযায়ী, এআই মোডে করা সার্চ সাধারণ সার্চের তুলনায় গড়ে তিন গুণ বেশি দীর্ঘ হয়। ছবি তুলে বা মোবাইলের পর্দা য় কোনো বস্তুকে চিহ্নিত করে তথ্য খোঁজার প্র বণতাও দ্রুত বাড়ছে।
গুগল ও চ্যাটজিপিট একসঙ্গে ব্য বহার করছেন অনেকে
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেমরাশের তথ্য অনুযায়ী, বেশির ভাগ ব্য বহারকারী এখন গুগল ও চ্যাটজিপিটি, দুটিই ব্য বহার করছেন।
সাধারণত কোনো ওয়েবসাইটে যাওয়া, প ণ্য কেনা বা নির্দিষ্ট তথ্য খোঁজার জন্য গুগল ব্য বহার করা হয়। অন্যদিকে দীর্ঘ তথ্য সংক্ষেপ করা, বিভিন্ন বিষয় তুলনা করা বা খসড়া লেখার কাজে ব্য বহার করা হয় চ্যাটজিপিটি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই মানুষের তথ্য খোঁজার পদ্ধতিকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে।
জনপ্রিয় হচ্ছে এআই ইনফ্লুয়েন্সার
এআইয়ের প্রভাব শুধু সার্চেই সীমাব দ্ধ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখা যাচ্ছে এর নতুন ব্য বহার।
ইনস্টাগ্রামে প্রায় চার লাখ অনুসারী রয়েছে আইতানা লোপেজ নামের এক জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সারের। তিনি নিয়মিত ছবি পোস্ট করেন, ফিটনেস ও সৌন্দর্যবিষয়ক পরামর্শ দেন। তবে বাস্তবে তিনি কোনো মানুষ নন; পুরো চরিত্রটিই এআই দিয়ে তৈরি।
এ ধরনের এআই ইনফ্লুয়েন্সার এখন অনেক ব্র্যান্ডের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। কারণ তাদের ব্য বহার করতে খরচ কম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহজে পরিবর্তন করা যায়।
অনলাইন কে নাকাটায়ও এআইয়ের দৌড়
অনলাইন কে নাকাটার ক্ষেত্রেও দ্রুত বাড়ছে এআইয়ের ব্য বহার।
অ্যাডোবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রয় ওয়েবসাইটগুলোতে এআইভিত্তিক সেবা থেকে আসা ভিজিটর প্রায় চার গুণ বেড়েছে।
গুগল, অ্যামাজন, মেটা ও ওপেনএআই ইতিমধ্যে কে নাকাটার জন্য বিভিন্ন এআই টুল চালু করেছে। এসব টুল প ণ্যের তুলনা, মূল্য যাচাই এবং কে নাকাটার সিদ্ধান্ত নিতে ব্য বহারকারীদের সহায়তা করছে।
মানুষের তৈরি ওয়েবসাইটের প্রয়োজন কি শেষ?
এআই সরাসরি অনেক প্রশ্নের উত্তর দিলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মানুষের তৈরি ওয়েবসাইটের প্রয়োজন এখনো শেষ হয়ে যায়নি।
গুগলের দা বি, তারা এখনো প্রতিদিন ওয়েবসাইটগুলোতে কোটি কোটি ভিজিটর পাঠাচ্ছে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, এআইয়ের তৈরি সংক্ষিপ্ত উত্তর দেখার পর অনেক ব্য বহারকারী আর ওয়েবসাইটে ক্লিক করেন না।
তবু বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো মানের তথ্য ও নির্ভরযোগ্য কনটেন্টের চাহিদা থাকবে। তবে অনলাইনে টিকে থাকতে হলে পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে।
তাদের ভাষায়, আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যেই ইন্টারনেট ব্য বহারের ধরন অনেকটাই পাল্টে যেতে পারে।




















