দিনভর বিক্ষোভ-সংঘাতের মধ্যে সভা করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত রাত ৯টার পরে অনলাইনে পরিচালনা পর্ষদের সভা করেছেন ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলম। সভায় ব্যাংকটির বাকি চার পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। তবে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কেউ ওই সভায় অংশ নেননি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সালাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নতুন চেয়ারম্যান রাত ৯টার দিকে ফোন করে মিটিং যুক্ত হতে বলেছেন। অনলাইনের ওই সভায় বাকি পরিচালকরাও অংশ নিয়েছেন। সভায় এমডি ওমর ফারুক খানের জমা দেয়া পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে এএমডি আলতাফ হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’
পর্ষদের সভায় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কেউ অংশ নিয়েছিলেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুস সালাম বলেন, ‘নতুন চেয়ারম্যান তাদের ফোন দিয়েছিলেন। কিন্তু কাউকে পাননি বলে আমাদের জানিয়েছেন।’
গত ২৪ মে ঈদুল আযহার ছুটি শুরুর আগের শেষ কর্মদিবসে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. জোবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের চাপের মুখে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। একই দিন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওমর ফারুক খান। ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ নিয়ে ওই দিন থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
খুরশীদ আলম ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতাচ্যূত আওয়ামী লীগের আমলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা তাকে ফ্যাসিস্টের দোসর আখ্যায়িত করেন। ওই সময় কর্মকর্তাদের বিক্ষোভের মুখে তিনিসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন চার কর্মকর্তা পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন।
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে খুরশীদ আলমের নিয়োগের পর ঈদের ছুটির মধ্যেই দেশব্যাপী বিভিন্ন স্থানে তার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে গ্রাহকরা বিক্ষোভ করেন বলে জানা গেছে। ছুটির পর সোমবার (১ জুন) প্রথম কার্যদিবসে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে চেয়ারম্যানের যোগদান ও পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’র ব্যানারে একদল বিক্ষোভকারী দিনভর প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানবন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ চলাকালে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
দিনভর আন্দোলনের কারণে নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম ব্যাংকে প্রবেশ করতে পারেননি। এছাড়া পর্ষদ সভা যাতে অনুষ্ঠিত না হয়, সেজন্য বোর্ডরুমেও তালা লাগিয়ে দেন ব্যাংকটির বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এক পর্যায়ে অনলাইনে পর্ষদ সভা আয়োজন করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমতি নেয়া হয়। তবে গ্রাহকদের আন্দোলনের মুখে সেটিও হতে পারেনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাত ৯টার পরে চেয়ারম্যান অন্য পরিচালকদের ফোন করে পর্ষদের সভা করেছেন বলে জানা গেছে।


















