দেশের হাই স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রযুক্তির বিকাশ ও উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ছড়িয়ে দিতে আগামী ১৩ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর চূড়ান্ত পর্ব। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের বিকেআইআইসিটি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটে এই সমাপনী আসর বসবে। একই দিন বিকেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে কুইজ ও প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
আজ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান আইসিটি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোঃ মামুনুর রশীদ ভূঞা। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) নির্বাহী পরিচালক এটিএম জিয়াউল ইসলাম এবং প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন পরিচালক মোঃ জাফরুল আলম খান।
ভারপ্রাপ্ত সচিব মোঃ মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, “আজ যারা কোড লিখছে, আগামী দিনে তারাই দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে নেতৃত্ব দেবে। তরুণদের এই যৌক্তিক চিন্তাধারা জাতীয় উন্নয়ন এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিযোগিতাটি ইতিমধ্যে সফলতার সাথে এক যুগেরও বেশি সময় পার করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য প্রোগ্রামিংকে শুধু কোড লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, একটি সৃজনশীল সমস্যা সমাধানের মাধ্যম হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি, আইসিটি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং এনসিএসএ (NCSA) মহাপরিচালক ড. মোঃ তৈয়বুর রহমান।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশ থেকে রেকর্ডসংখ্যক ৯ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। অনলাইন বাছাই পর্ব শেষে ৭ হাজার ২২৭ জন শিক্ষার্থী আঞ্চলিক পর্বের জন্য নির্বাচিত হয়। গত ১৬ মে দেশের ২৪টি ভেন্যুতে প্রোগ্রামিং এবং ১৬টি ভেন্যুতে কুইজ প্রতিযোগিতার আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৪,৪৮৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। আঞ্চলিক পর্বের লড়াই শেষে মোট ৮৩১ জন প্রতিযোগী জাতীয় বা চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। এর মধ্যে ৩৮৭ জন প্রোগ্রামিং এবং ৪৪৪ জন কুইজ প্রতিযোগী রয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতাটি কুইজ ও প্রোগ্রামিং মিলিয়ে মোট ৫টি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হবে।




















