দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে প্রথমবারের মতো ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম ব্যান্ড চালু করেছে শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রযুক্তি চালুর ফলে ভবনের ভেতরে মোবাইল নেটওয়ার্কের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে এবং গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকাতেও আরও বিস্তৃত কভারেজ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী।
টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ৭০০ মেগাহার্টজ একটি ‘লো-ব্যান্ড’ স্পেকট্রাম হওয়ায় এর সিগন্যাল দূরবর্তী এলাকায় সহজে পৌঁছাতে পারে এবং ভবনের দেয়াল ভেদ করেও তুলনামূলক ভালো কভারেজ দিতে সক্ষম।
ফলে একই সংখ্যক বেস স্টেশন ব্যবহার করে আরও বৃহৎ এলাকা নেটওয়ার্কের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এতে অপারেটরদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ব্যয়ও কমবে।
অনুষ্ঠানে রেহান আসিফ আসাদ বলেন, “৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের ব্যবহার দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শহর ও গ্রাম উভয় অঞ্চলে উচ্চমানের সংযোগ সম্প্রসারণ ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ত্বরান্বিত করবে এবং জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সেবাগুলো আরও সহজলভ্য করবে।”
বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী বলেন, “এই স্পেকট্রামের ব্যবহার বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে ভবনের ভেতরে এবং সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় কভারেজ উন্নয়নে এটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এর ফলে গ্রাহকরা আরও নির্ভরযোগ্য ভয়েস ও ডেটা সেবা পাবেন।”
গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান বলেন, “৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম ফোরজি নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের ফাইভজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই স্পেকট্রাম ইনডোর কভারেজ উন্নত করবে, গ্রামীণ সংযোগ শক্তিশালী করবে এবং লাখো গ্রাহককে আরও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল অভিজ্ঞতা দিতে সহায়তা করবে।”
চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো গ্রামীণফোনকে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ১০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেয় বিটিআরসি।
১৩ বছরের জন্য দেওয়া এই বরাদ্দের বিপরীতে গ্রামীণফোন রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা জমা দেবে বলে জানা গেছে।
টেলিযোগাযোগ খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো আন্তর্জাতিক মানের আরও কাছাকাছি পৌঁছাবে এবং গ্রাহকরা বিশেষ করে গ্রামীণ ও ইনডোর এলাকায় উন্নত মানের সেবা উপভোগ করতে পারবেন।






















