বর্তমান ২০২৬ সালে এসে আমাদের দৈনন্দিন জীবন যতটা প্রযুক্তি-নির্ভর হয়েছে, ঠিক ততটাই বাড়ছে সাইবার অপরাধের ঝুঁকি। বিশেষ করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে হ্যাকার ও স্ক্যামাররা এখন সাধারণ ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলতে নিত্যনতুন ফাঁদ পাতছে।
সম্প্রতি বিশ্ববিখ্যাত সাইবার নিরাপত্তা গবেষকেরা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বড় ধরণের রেড অ্যালার্ট বা নতুন সতর্কতা জারি করেছেন। তারা জানিয়েছেন, ফিশিং ই-মেইল, ভুয়া অ্যাপ এবং অনলাইন আর্থিক প্রতারণার হার আগের চেয়ে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইন্টারনেটে নিরাপদে থাকতে স্ক্যামারদের নতুন নতুন কৌশল এবং এগুলো থেকে বাঁচার উপায় চলুন এক নজরে জেনে নেওয়া যাক:
নিরাপত্তা গবেষকদের মতে, এবারের সাইবার থ্রেটের সবচেয়ে ভীতিজনক দিক হলো এআই-এর ব্যবহার। আগে ফিশিং ই-মেইল বা ভুয়া বার্তাগুলোতে ব্যাকরণগত ভুল (Spelling mistakes) দেখে সাধারণ মানুষ সহজেই ধরে ফেলতে পারত যে এটি কোনো জালিয়াতি।
কিন্তু এখন হ্যাকাররা চ্যাটজিপিটি বা অন্যান্য অ্যাডভান্সড এআই টুলস ব্যবহার করে একদম পেশাদার ও নিখুঁত ভাষার ই-মেইল ও মেসেজ তৈরি করছে। শুধু তাই নয়, এআই দিয়ে ব্যাংকিং সাইট বা বিভিন্ন জনপ্রিয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের হুবহু নকল বা ক্লোন ওয়েবসাইট (Spoofed Websites) তৈরি করা হচ্ছে, যা দেখে আসল না নকল তা সাধারণ চোখে চেনার কোনো উপায় নেই। এর ফলে ব্যবহারকারীরা অজান্তেই তাদের আইডি, পাসওয়ার্ড এবং ক্রেডিট কার্ডের গোপন তথ্য স্ক্যামারদের হাতে তুলে দিচ্ছেন।
স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের টার্গেট করে বিভিন্ন থার্ড-পার্টি ওয়েবসাইট এবং অননুমোদিত সোর্স থেকে ‘প্রিমিয়াম অ্যাপ ফ্রিতে ডাউনলোডের’ লোভ দেখিয়ে ছড়ানো হচ্ছে ক্ষতিকারক ম্যালওয়্যার ও স্পাইওয়্যার। এই ভুয়া অ্যাপগুলো ফোনে ইনস্টল করার সাথে সাথেই ইউজারের অজান্তে ব্যাকগ্রাউন্ডে কল রেকর্ড, ওটিপি (OTP) এবং গ্যালারির ছবি চুরি করে নিচ্ছে।
বানান ও ইউআরএল (URL) চেক করুন: কোনো ই-মেইল বা মেসেজের লিংকে ক্লিক করার আগে ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে গিয়ে ওয়েবসাইটের বানানটি ভালো করে খেয়াল করুন (যেমন- facebook.com এর জায়গায় faacebook.com বা faceb00k.com আছে কি না)।
অযাচিত লিংকে ক্লিক করা বন্ধ করুন: লটারি জেতা, বিকাশ বা নগদের বোনাস কিংবা হুট করে আসা কোনো আকর্ষণীয় অফারের লিংকে ভুcomposite ক্লিক করবেন না।
সোর্স যাচাই ছাড়া অ্যাপ নয়: গুগল প্লে স্টোর কিংবা অ্যাপলের অফিশিয়াল অ্যাপ স্টোর ছাড়া অন্য কোনো বাইরের লিংক বা এপিকে (APK) ফাইল ফোনে ইনস্টল করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।
টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু রাখুন: আপনার ফেসবুক, জিমেইল এবং ব্যাংকিং অ্যাপে অবশ্যই টু-ফ্যাক্টর সিকিউরিটি সচল রাখুন। এর ফলে কেউ আপনার পাসওয়ার্ড জেনে গেলেও আপনার ফোনে আসা কোড ছাড়া লগইন করতে পারবে না।





















