বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান ‘বাইন্যান্স’ নানা আইনি জটিলতার পরও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চায়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ইউরোপে ব্যবসা করার লাইসেন্স পাওয়ার প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর লাখ লাখ গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে অনুমতি পাওয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর রয়টার্স।
ইউরোপে বর্তমানে বাইন্যান্সের ব্যবসা করার যে অনুমতি রয়েছে, তার মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। এ সময়ের মধ্যে নতুন লাইসেন্স জোগাড় করতে না পারলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে তাদের সমস্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। নতুন ক্রিপ্টো ট্রেডিং পেতে গ্রীসের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছে আবেদন করলেও তা বাতিল হয়ে গেছে।
এরপরই রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিষ্ঠানটির ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য অঞ্চলের প্রধান জিলিয়ান লিঞ্চ বলেন, বাইন্যান্স ইউরোপ ছেড়ে চলে যাচ্ছে না। অনুমতি পাওয়ার জন্য আমাদের হয়তো অন্য কোনো পথ বা কৌশল অবলম্বন করতে হবে। গ্রিসে কাজ না হলে, আমি অন্যান্য বিকল্প দেশগুলোর দিকে নজর দিচ্ছি।
বাইন্যান্স কর্মকর্তা জিলিয়ান লিঞ্চ দাবি করেন, তাদের আবেদন কেন বাতিল করা হয়েছে সে বিষয়ে কোম্পানিকে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। অথচ গ্রিস লাইসেন্স দেবে এ বিষয়ে তারা আশাবাদী ছিলেন। তিনি আরো জানান, তারা চার-পাঁচটি দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গ প্রাথমিক কথাবার্তা বললেও, আনুষ্ঠানিকভাবে কেবল গ্রিসেই আবেদন জমা দিয়েছিলেন।
এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত নির্ভরযোগ্য দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, বাইন্যান্স লাইসেন্সের জন্য আয়ারল্যান্ড, লাটভিয়া ও গ্রিসের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা করেছিল। কিন্তু তিনটি দেশ থেকেই তারা তীব্র বাধার সম্মুখীন হয়েছে। সূত্রগুলো জানায়, সরকারি কর্মকর্তারা মূলত তিনটি কারণে বাইন্যান্সকে লাইসেন্স দিতে রাজি হচ্ছেন না:
অতীতে ‘মানি লন্ডারিং’ বা অবৈধ অর্থ পাচারের দায়ে বাইন্যান্সকে বড় অঙ্কের জরিমানা গুণতে হয়েছিল।
আন্তর্জাতিকভাবে তাদের কোম্পানির গঠন বা চেইন অব কমান্ড অত্যন্ত জটিল।
নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে প্রতিষ্ঠানটির অতিরিক্ত ঝুঁকি নেয়ার সংস্কৃতি রয়েছে ।
অবশ্য এ অভিযোগগুলোর বিষয়ে আয়ারল্যান্ড, লাটভিয়া বা গ্রিসের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।





















