চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই ও দুই সাবেক কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে অ্যাপল। টেক জায়ান্টটির অভিযোগ, অ্যাপলের নকশা ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার গোপনীয় তথ্য বা ‘ট্রেড সিক্রেট’ চুরির একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। খবর রয়টার্স।
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক দুই শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার উত্তেজনা কয়েক মাস ধরে চলছে। মামলাটির মাধ্যমে সে দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে এল।
অ্যাপলের দাবি, কোম্পানির সাবেক চার শতাধিক কর্মী বর্তমানে ওপেনএআইয়ে কর্মরত। এর মধ্যে তান নামের অ্যাপলের সাবেক একজন হার্ডওয়্যার প্রধানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে আইফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
চাকরি ছাড়ার আগে তান পরিকল্পিতভাবে অ্যাপলের গোপন তথ্য নিজের ই-মেইলে পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে অ্যাপলের বিভিন্ন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান (সাপ্লায়ার) ও অভ্যন্তরীণ শিল্পসংক্রান্ত সারসংক্ষেপ ছিল। তান অ্যাপলে প্রায় ২৪ বছর কাজ করেছেন, এর বেশির ভাগ সময়ই তিনি আইফোন প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন।
অন্য আরেকজন সাবেক কর্মী লিউয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি চাকরি ছাড়ার পর কোম্পানির ল্যাপটপ ফেরত দেননি। পরবর্তী সময়ে তিনি অ্যাপলের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কের একটি ত্রুটিকে কাজে লাগিয়ে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে হার্ডওয়্যার-সংক্রান্ত বেশকিছু অত্যন্ত গোপনীয় ফাইল ডাউনলোড করেন তিনি।
বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, ওপেনএআই এখন নিজস্ব ফোন বা এমন কোনো ডিভাইস তৈরির কাজ করছে, যা প্রথাগত অ্যাপ বা অপারেটিং সিস্টেমের ওপর নির্ভর করবে না। গত বছর ওপেনএআই ৬৫০ কোটি ডলারের একটি চুক্তির মাধ্যমে ‘আইও প্রডাক্টস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান কিনে নেয়। এর মাধ্যমেই কনজিউমার হার্ডওয়্যার বা গ্রাহক পর্যায়ের যন্ত্রাংশের বাজারে কোম্পানিটির প্রবেশের ইঙ্গিত মেলে। ওপেনএআইয়ের ডিভাইসটি সফল হলে অ্যাপলের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া পণ্য ‘আইফোন’ থেকে গ্রাহকদের নজর সরে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে।
ওপেনএআই অভিযোগ অস্বীকার করে এক বিবৃতিতে জানায়, অন্য কোনো কোম্পানির বাণিজ্যিক গোপনীয়তার প্রতি প্রতিষ্ঠানের কোনো আগ্রহ নেই।


















