অ্যাপলের ৫ বছরের ডিভাইস সাপোর্টের আধিপত্যকে টেক্কা দিতে গুগল এবং স্যামসাং এখন তাদের ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলোতে অবিশ্বাস্য ৭ বছরের সফটওয়্যার আপডেটের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এর অর্থ হলো, ২০২৬ সালে কেনা একটি ফোন ২০৩৩ সাল পর্যন্ত নতুন অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ, নিরাপত্তা প্যাচ ও নতুন সব ফিচার পাবে। কাগজ-কলমে পরিবেশ ও পকেটের জন্য এটি দারুণ সুখবর মনে হলেও, বাস্তবে এটি গ্রাহকদের সামনে ‘দীর্ঘস্থায়ী সাপোর্টের এক নতুন ফাঁদ’ বা দ্বিধা তৈরি করেছে।
এই সমস্যার প্রথম ও প্রধান কারণ হলো ফোনের ব্যাটারি। সফটওয়্যার ডিজিটাল পদ্ধতিতে আপডেট করা গেলেও, ফোনের ভেতরে থাকা লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিটি প্রতিবার চার্জ দেওয়ার সাথে সাথে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে। সাধারণত একটি আধুনিক স্মার্টফোনের ব্যাটারি ১ হাজার বার পূর্ণ চার্জ হওয়ার পর তার আসল সক্ষমতার ৮০ শতাংশে নেমে আসে।
একজন গড় ব্যবহারকারীর হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪ বছর পর ফোনের ব্যাটারির কার্যক্ষমতা লক্ষণীয়ভাবে কমে যায়। তখন প্রসেসর আর আগের মতো পুরো শক্তি পায় না, ফলে ফোনের গতিও কমে যায়। অবশ্য ১০০ ডলার খরচ করে ব্যাটারি পরিবর্তন করে ৭ বছরের মেয়াদ পার করা সম্ভব, যা নতুন ফোন কেনার চেয়ে সাশ্রয়ী।
তবে আসল জটিলতা তৈরি হয় সফটওয়্যারের বিবর্তনে। সময়ের সাথে সাথে অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস অপারেটিং সিস্টেম আরও ভারী হয়, যুক্ত হয় জটিল নিরাপত্তা কোড এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন প্রযুক্তি। ইতিহাস বলে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই পুরোনো ফোনের হার্ডওয়্যার ‘অক্ষম’ হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে নতুন ফিচারগুলো কেবল নতুন মডেলেই সীমাবদ্ধ রাখে।
উদাহরণস্বরূপ, গুগলের ‘ভিডিও বুস্ট’ ফিচারটি ক্লাউডে প্রসেস হওয়া সত্ত্বেও তা কেবল নির্দিষ্ট প্রসেসর মডেলে দেওয়া হয়েছিল এবং মাত্র এক বছরের পুরোনো মডেলে তা আর দেওয়া হয়নি। একইভাবে স্যামসাংয়ের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তাদের পুরোনো মডেলগুলো ২০২৬ সালের শুরুতে সর্বশেষ নিরাপত্তা প্যাচ এবং নতুন সংস্করণের অ্যান্ড্রয়েড পেলেও, আধুনিক ‘গ্যালাক্সি এআই’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মূল ফিচারগুলো থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
অর্থাৎ, ৭ বছরের আপডেটের নামে গ্রাহকরা আসলে কেবল নতুন আইকন, ইন্টারফেসের বাহ্যিক পরিবর্তন এবং নিরাপত্তা সার্টিফিকেট পান। নতুন ভারী সফটওয়্যারের কারণে পুরোনো প্রসেসরের ওপর চাপ বাড়ে, ফোন গরম হয় এবং পরোক্ষভাবে তা ব্যাটারির আয়ু আরও দ্রুত কমিয়ে দেয়।
সুতরাং, ৭ বছরের এই প্রতিশ্রুতির বাস্তব চিত্র হলো- একটি নতুন ফোন কেনার পর বড়জোর ২ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত আপনি এর আসল এবং সব আধুনিক ফিচারগুলো উপভোগ করতে পারবেন। এরপর থেকে ফোনটি সচল থাকবে এবং নিরাপত্তা আপডেটও পাবে, কিন্তু নতুন প্রযুক্তির আনন্দ উপভোগ করতে হলে ৩ বছরের পুরোনো ফোন পরিবর্তনের সেই চিরচেনা চক্রেই আটকে থাকতে হবে গ্রাহকদের।




















