স্মার্টফোনে বড় ব্যাটারি ব্যবহারের প্রবণতা ২০২৬ সালে আরও জোরালো হয়েছে। নতুন সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি প্রযুক্তি, উন্নত তাপ নিয়ন্ত্রণ এবং তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ খরচের প্রসেসরের কারণে এখন ৮,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার-আওয়ার (এমএএইচ) বা তার বেশি ক্ষমতার ব্যাটারি তুলনামূলক পাতলা ফোনেও যুক্ত করা হচ্ছে।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট গিজমোচায়নার হালনাগাদ তালিকা অনুসারে, চলতি বছরে বড় ব্যাটারির স্মার্টফোনের তালিকায় ফ্ল্যাগশিপ, গেমিং এবং মধ্যম বাজেটের বেশ কয়েকটি মডেল জায়গা করে নিয়েছে।
১. শাওমি ১৭ ম্যাক্স
তালিকার অন্যতম আকর্ষণ শাওমি ১৭ ম্যাক্স। ফোনটিতে রয়েছে ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি। চার্জিংয়ের জন্য থাকছে ১০০ ওয়াট ওয়্যার্ড এবং ৫০ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধা।
ডিভাইসটিতে স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ প্রসেসর এবং ৬.৯ ইঞ্চির ১.৫কে এলটিপিও ওএলইডি ডিসপ্লে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। ক্যামেরা বিভাগে রয়েছে লাইকা ব্র্যান্ডের ২০০ মেগাপিক্সেল প্রধান ক্যামেরা ও ৫০ মেগাপিক্সেল পেরিস্কোপ লেন্স।
২. লেনোভো লিজিয়ন ওয়াই৭০
গেমিংয়ের জন্য তৈরি লেনোভো লিজিয়ন ওয়াই৭০-এর ২০২৬ সংস্করণে রয়েছে ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি। দীর্ঘ সময় গেম খেলার সময় ব্যাটারির ওপর চাপ কমাতে এতে বাইপাস চার্জিং প্রযুক্তি রয়েছে।
ফোনটিতে স্ন্যাপড্রাগন ৮ জেন ৫ প্রসেসর এবং ৬.৮২ ইঞ্চির ২কে রেজল্যুশনের ১৪৪ হার্টজ অ্যামোলেড ডিসপ্লে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। তাপ নিয়ন্ত্রণের জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
৩. রেডমি নোট ১৭
৮,০০০ এমএএইচ সিলিকন-কার্বন ব্যাটারির সঙ্গে রেডমি নোট ১৭ সিরিজের এই মডেলটি দীর্ঘ ব্যাকআপকে গুরুত্ব দিয়েছে। এতে ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং এবং ২২.৫ ওয়াট রিভার্স চার্জিং সুবিধা রয়েছে।
ফোনটিতে স্ন্যাপড্রাগন ৪ জেন ৪ চিপসেট, ৬.৯ ইঞ্চির ১২০ হার্টজ অ্যামোলেড ডিসপ্লে এবং ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা রয়েছে। সফটওয়্যার হিসেবে অ্যান্ড্রয়েড ১৬-ভিত্তিক হাইপারওএস ৩ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
৪. পোকো এম৮ পাওয়ার ৫জি
বড় ব্যাটারির সঙ্গে তুলনামূলক পাতলা নকশার সমন্বয় করার চেষ্টা করেছে পোকো। এম৮ পাওয়ার ৫জি মডেলে রয়েছে ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি। ফোনটির পুরুত্ব ৮.৪ মিলিমিটার এবং ওজন ২২০ গ্রাম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং ও ২২.৫ ওয়াট ওয়্যারড রিভার্স চার্জিং সুবিধা রয়েছে। ৬.৯ ইঞ্চির ১২০ হার্টজ অ্যামোলেড ডিসপ্লে, স্ন্যাপড্রাগন ৪ জেন ৪ প্রসেসর এবং ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরাও থাকছে।
৫. অনার পাওয়ার ২
অনার পাওয়ার ২ মডেলে ৮,০০০ এমএএইচের বেশি ক্ষমতার উচ্চ-ঘনত্বের সিলিকন-কার্বন অ্যানোড ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে।
বড় ব্যাটারি হলেও ফোনটিকে তুলনামূলক পাতলা রাখার দিকে নজর দিয়েছে অনার। এতে আই-প্রোটেকশন সুবিধাযুক্ত ড্রপ-রেজিস্ট্যান্ট ওএলইডি ডিসপ্লে এবং মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৮০০০ সিরিজের প্রসেসর থাকার কথা বলা হয়েছে।
৬. আইকিউ জেড১১ সিরিজ
আইকিউর জেড১১ সিরিজে ব্যাটারি সক্ষমতা ৮,০০০ থেকে সর্বোচ্চ ৯,০২০ এমএএইচ পর্যন্ত হতে পারে। এর সঙ্গে ৯০ ওয়াট ফ্ল্যাশচার্জ প্রযুক্তি রয়েছে।
ডিভাইসটিতে ডাইমেনসিটি ৭৫০০ টার্বো/৭৫০১৮ চিপসেট, ৬.৮৩ ইঞ্চির থ্রিডি কার্ভড ওএলইডি ডিসপ্লে এবং ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। বড় ব্যাটারির পাশাপাশি গেমিং পারফরম্যান্সেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মডেলটিতে।
৭. ওয়ানপ্লাস নর্ড ৬
ওয়ানপ্লাস নর্ড ৬-এ রয়েছে ৮,০০০ এমএএইচের ‘গ্লেসিয়ার ব্যাটারি’। দ্রুত চার্জের জন্য এতে ১০০ ওয়াট সুপারভুক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
স্ন্যাপড্রাগন ৭ জেন ৪ চিপসেট, ১.৫কে রেজল্যুশনের ফ্ল্যাট ওএলইডি ডিসপ্লে এবং কালারওএস/অক্সিজেনওএস ১৬ সফটওয়্যার এই ফোনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
৮. অপো কে১৫ প্রোভিপ্লাস
তালিকার আরেকটি শক্তিশালী মডেল অপো কে১৫ প্রোভিপ্লাস। এতে ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারির পাশাপাশি ১০০ ওয়াট সুপারভুক ফাস্ট চার্জিং সুবিধা রয়েছে।
গেমিংয়ের কথা মাথায় রেখে এতে মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৯৫০০এস প্রসেসর, ৬.৭৮ ইঞ্চির ১৬৫ হার্টজ ওএলইডি ডিসপ্লে এবং বিশেষ লিকুইড কুলিং চেম্বার ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
বড় ব্যাটারির দিকে কেন ঝুঁকছে নির্মাতারা
স্মার্টফোনে ৮,০০০ এমএএইচের বেশি ব্যাটারি ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো দীর্ঘ সময় চার্জ ছাড়াই ফোন চালানোর সুযোগ। বিশেষ করে গেমিং, ভিডিও স্ট্রিমিং, নেভিগেশন কিংবা দীর্ঘ সময় মোবাইল ডেটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় ব্যাটারি ব্যবহারকারীদের বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
তবে শুধু ব্যাটারির সক্ষমতা দেখেই ফোন বেছে নেওয়া উচিত নয়। প্রসেসরের বিদ্যুৎ দক্ষতা, ডিসপ্লের রিফ্রেশ রেট, সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন এবং চার্জিং প্রযুক্তিও ব্যাটারি ব্যাকআপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে একই সক্ষমতার ব্যাটারি থাকা দুই ফোনের প্রকৃত ব্যবহারের সময়েও পার্থক্য দেখা যেতে পারে।




















