ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ না হলেও নষ্ট হয়ে যাওয়া একটি SSD মেরামত বা সমমানের পণ্য দিয়ে বদলে না দিয়ে পুরনো ক্রয়মূল্য ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে দেশের অন্যতম আইটি পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান স্টারটেকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মেহরাব হোসেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, পণ্য কেনার সময় দেওয়া ওয়ারেন্টি সুবিধা কার্যকর করতে গিয়ে স্টারটেকের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সেবা পাননি তিনি।
অভিযোগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ মার্চ স্টারটেক থেকে ৭ হাজার ৬০০ টাকায় ১ টেরাবাইট ধারণক্ষমতার একটি SSD কেনেন মেহরাব। এটির চালান নম্বর SO-STLIB-Tobed 1391-2024-000505। পণ্যটির সঙ্গে নির্দিষ্ট মেয়াদের ওয়ারেন্টিও দেওয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি ব্যবহারের সময় SSD-টি নষ্ট হয়ে গেলে ওয়ারেন্টি সুবিধা নিতে সেটি স্টারটেকের সার্ভিস সেন্টারে জমা দেন তিনি।
মেহরাবের অভিযোগ, সার্ভিস সেন্টারের প্রতিনিধি ফাহিম তাঁকে জানান, ওই মডেলটির সরবরাহ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ফলে একই মডেলের পণ্য দিয়ে রিপ্লেসমেন্ট দেওয়ার সুযোগ নেই।
তবে গ্রাহকের দাবি, একই সক্ষমতার ১ টেরাবাইট SSD বর্তমানে বাজারে প্রায় ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও স্টারটেক সমমানের কোনো পণ্য দেওয়ার প্রস্তাব দেয়নি। বরং ২০২৪ সালে দেওয়া ৭ হাজার ৬০০ টাকা ফেরত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
মেহরাবের ভাষ্য, এতে তাঁকে নতুন করে একই ধরনের SSD কিনতে হলে বর্তমান বাজারদরের কারণে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (BCS) নীতিমালার কথা উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি সমমানের পণ্য দেওয়ার দায় এড়িয়ে যাচ্ছে।
ওয়ারেন্টি সুবিধা নিয়ে বিরোধের প্রতিকার চেয়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অনলাইন পোর্টালে লিখিত অভিযোগ করেছেন মেহরাব। তিনি পুরনো ক্রয়মূল্য ফেরতের বদলে সমমানের পণ্য অথবা প্রযোজ্য আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী উপযুক্ত প্রতিকার দাবি করেছেন।
ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টদের মতে, ওয়ারেন্টির আওতায় থাকা কোনো পণ্য নষ্ট হলে বিক্রেতা বা সংশ্লিষ্ট ওয়ারেন্টি প্রদানকারীর দায়িত্ব কী হবে, তা নির্ভর করে বিক্রয় শর্ত, ওয়ারেন্টি নীতিমালা এবং প্রযোজ্য আইনের ওপর। কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা আইনসঙ্গত কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের বিষয়।





















