বহুল প্রচলিত ই-কমার্স প্লাটফর্ম দারাজে তেলের মোড়কে বিক্রি হচ্ছিল গাঁজার উপকরণ। ক্রেতা সেজে সেই তেল কেনেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (নারকোটিক্স) কর্মকর্তারা। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের পর সোমবার অনলাইন মার্কেট প্লেস দারাজের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে দারাজের এক পণ্য সরবরাহকারী। আসামির তালিকায় আছে দারাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বেন ই সহ আজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজন।
সোমবার রাজধানীর বাড্ডা থানায় এ সংক্রান্ত মামলা দায়ের করা হয়। এর আগে রবিবার বিকালে অভিযান চালিয়ে দারাজের পণ্য সরবরাহকারী আনিসুর রহমানকে গ্রেফতার করে সংস্থাটি। দীর্ঘদিন জাপানে থেকে মাদক তৈরির কৌশল রপ্ত করেন। পরে ঢাকায় এসে তিনি সুগন্ধি সাবান তৈরির আড়ালে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।
এ প্রসঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) হাসান মারুফ বলেন, সরকার যে কোনো মূল্যে মাদকের বিস্তারে লাগাম টানতে চায়। এ কারণে সম্প্রতি সংশোধিত আইনে সাইবার স্পেসে মাদক কেনাবেচার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দারাজ ছাড়াও সন্দেহজনক বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ওপর নজরদারি অব্যাহত আছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দারাজের ওয়েবসাইটে সিবিডি অয়েল (গাঁজার তেল) নামের একটি পণ্য দেদার বিক্রি করা হচ্ছিল। এমন গোয়েন্দা তথ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা সম্প্রতি বেশ কয়েকটি পণ্য অর্ডার করেন। এরপর দারাজের এক ডেলিভারিকর্মী কয়েক বোতল সিবিডি অয়েল সরবরাহ করেন। পরে সেটি রাসায়নিক ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ভয়ংকর মাদকদ্রব্যে উপাদান বেরিয়ে আসে। দেখা যায়-সিবিডি অয়েল নামের ওই পণ্যে উচ্চমাত্রায় গাঁজার তরল উপাদান বা টিএইচসি (টেট্রাহাইড্রো ক্যানাবিস) রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, এরপর রবিবার বিকালে সাতারকুল এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে মুজতকৃত বিপুল পরিমাণ সিবিডির বোতল, মাদবদ্রব্য উৎপাদনের বিভিন্ন উপকরণসহ দারাজের আনিসুর রহমান নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির এমডিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
নারকোটিক্সের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা অঞ্চলের উপপরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, দারাজে বিক্রীত পণ্যে মাদক পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট পণ্যের কারখানায় অভিযান চালানো হয়। রোববার বিকালে বাড্ডার সাতারকুল এলাকার একটি ফ্ল্যাটে গেলে সেখানে মজুতকৃত বিপুল পরিমাণ সিবিটি অয়েল এবং এ সংক্রান্ত নানা ধরনের উপকরণ পাওয়া যায়।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশোধনী এনে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মাদক বেচাকেনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে সংশোধিত ধারায় এটিই প্রথম মামলা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ (সংশোধিত ২০২০ এবং ২৬) এর ৩৬-এর ‘ক’ ধারায় বলা হয়েছে, সাইবার স্পেস বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে কেউ মাদকদ্রব্য বা সাইকোঅ্যাকটিভ সাবস্টেন্স অবৈধ ক্রয়, বিক্রয়, সরবরাহ, প্রস্তাব, প্রচার বা লেনদেন ইত্যাদি অপরাধে যুক্ত হলে তিনি সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং অনূর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।





















