বিশ্ববাজারে কম দামের স্মার্টফোনের সরবরাহ আগামী কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের (Counterpoint Research) সর্বশেষ স্মার্টফোন শিপমেন্ট পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০০ ডলারের (প্রায় ২৫ হাজার টাকা) কম দামের প্রায় ২৩ কোটি (২৩০ মিলিয়ন) স্মার্টফোনের বাজার হারিয়ে যেতে পারে।
গবেষণা সংস্থাটির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় একই ফোন ব্যবহারের প্রবণতা এন্ট্রি-লেভেল স্মার্টফোনের বাজারে চাপ তৈরি করছে। এর ফলে ২০২৬-২৭ সময়ে কম দামের ফোনের বাজার উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কেন কম দামের ফোনের বাজার সংকুচিত হচ্ছে
এন্ট্রি-লেভেল স্মার্টফোন তৈরিতে ব্যবহৃত মেমোরি, ডিসপ্লে ও প্রসেসরসহ বিভিন্ন উপাদানের দাম বাড়ায় নির্মাতাদের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে। একই সঙ্গে কম দামের ফোনে মুনাফার পরিমাণ তুলনামূলক কম হওয়ায় নির্মাতাদের জন্য এই বিভাগে ব্যবসা ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।
বিশেষ করে উন্নত চিপ, ফ্ল্যাশ মেমোরি ও অন্যান্য হার্ডওয়্যার ব্যবহারের খরচ বাড়ায় ২০০ ডলারের নিচে মানসম্মত স্মার্টফোন তৈরিতে চাপ বাড়ছে।
অন্যদিকে, গ্রাহকেরাও আগের তুলনায় ফোন দীর্ঘ সময় ব্যবহার করছেন। নতুন বাজেট ফোন কেনার পরিবর্তে অনেকে পুরোনো ফোনের ব্যবহার বাড়াচ্ছেন বা ব্যবহৃত প্রিমিয়াম স্মার্টফোন কিনছেন। ফলে নতুন এন্ট্রি-লেভেল ডিভাইসের চাহিদাতেও প্রভাব পড়ছে।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে উদীয়মান বাজারে
বাংলাদেশ, ভারত, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার মতো উদীয়মান বাজারে কম দামের স্মার্টফোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব অঞ্চলে ফিচার ফোন থেকে স্মার্টফোনে ব্যবহারকারী স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী ডিভাইসের চাহিদা বেশি।
বাজেট ফোনের সরবরাহ কমে গেলে কম আয়ের মানুষের স্মার্টফোনে প্রবেশের গতি ধীর হতে পারে। একই সঙ্গে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ডিভাইস ফাইন্যান্সিং, কিস্তি সুবিধা, ট্রেড-ইন বা পুরোনো ফোন বদলে নতুন ফোন কেনার কর্মসূচি এবং অন্যান্য প্রণোদনা কম দামের স্মার্টফোনের নাগাল ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
বাড়তে পারে মিড-রেঞ্জ ও প্রিমিয়াম ফোনের চাহিদা
বাজেট ফোনের বাজার সংকুচিত হলেও ২০০ থেকে ৬০০ ডলারের মিড-রেঞ্জ এবং ৬০০ ডলারের বেশি দামের প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের বাজারে প্রবৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে।
উন্নত ক্যামেরা, অন-ডিভাইস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি ও ৫জি সুবিধার কারণে ক্রেতাদের একটি অংশ তুলনামূলক দামি ফোনের দিকে ঝুঁকতে পারেন।
কাউন্টারপয়েন্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজার প্রায় ১২০ কোটি ইউনিটে ফিরে আসতে পারে। তবে বাজারের ইউনিট সংখ্যা বাড়লেও কম দামের ফোনের অংশ আগের মতো নাও থাকতে পারে।
ফলে আগামী কয়েক বছরে স্মার্টফোন শিল্পে প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু বাজেট ফোন থেকে ধীরে ধীরে মিড-রেঞ্জ ও প্রিমিয়াম বিভাগে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।





















