দীর্ঘদিন ধরে দেশে অবৈধভাবে মোবাইল ফোন আমদানি ও কর ফাঁকি দিয়ে বিক্রির একটি বড় বাজার গড়ে উঠেছে। রাজধানীর বড় বড় মার্কেট থেকে শুরু করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও প্রকাশ্যে এসব ফোন বিক্রি হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কোনো ব্যবসা পরিচালিত হলেই তা বৈধ হয়ে যায় না। ট্রেড লাইসেন্স থাকা মানেও অবৈধভাবে পণ্য আমদানি কিংবা সরকারকে প্রাপ্য কর-শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার অনুমতি নয়।
অতীতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বল নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতার কারণে গ্রে মার্কেট বিস্তৃত হয়ে থাকলেও তার অর্থ এই নয় যে, সেই বাজারের ব্যবসায়ীরা আইন অমান্য করার দায় থেকে মুক্তি পাবেন। বরং অবৈধ আমদানি, কর ফাঁকি এবং অনুমোদনহীন হ্যান্ডসেট বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এনইআইআর বাস্তবায়নের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত অবৈধ আমদানি বন্ধ, ক্লোন আইএমইআই শনাক্ত এবং বৈধ ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিত করা। কোনো ব্যবসায়ী আগে থেকে অবৈধভাবে ফোন আমদানি করে মজুত করেছেন—এমন যুক্তিতে তাঁকে কর-শুল্ক পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে বৈধ আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদকদের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ করাও জরুরি।
এ ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব হবে এনইআইআর কার্যকরভাবে চালু করা, কর ফাঁকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং বৈধ পথে আমদানি করা বা দেশে উৎপাদিত ফোনের বাজার সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা। অবৈধ ব্যবসা বন্ধের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ রাখা হলে এনইআইআর বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হবে।






















