২০১৮ সালের অক্টোবরে ঘটা করে মুঠোফোন নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদলে নেওয়ার (এমএনপি) সুবিধা চালু করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বিশ্বের ৭২তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে এমন সুবিধা প্রদানে একক দায়িত্ব পায় ইনফোজিলিয়ন টেলিটেক বাংলাদেশ লিমিটেড।
প্রথম বছরেই এমএনপি সেবায় সাড়া ছিল ভালো। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের মে মাসে ১ লাখ ১১ হাজার ১২৭ জন গ্রাহক নম্বর একই রেখে অপারেটর বদল করেন। কিন্তু বছর ঘুরতেই সেই সংখ্যা নেমে আসে কয়েক হাজারে। সর্বশেষ চলতি বছরের মার্চ মাসে এই সেবাগ্রহীতার সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫২২ জনে।
এমন পতনে উচ্চ সিম কর, নিয়ন্ত্রক সংস্থার বাধা, আবেদন বাতিলের উচ্চ হার, অপারেটরদের অসহযোগিতা, খুদে বার্তা বা এসএমএস জটিলতা, ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড)–সংক্রান্ত জটিলতা এবং মুঠোফোনে আর্থিক সেবা বা এমএফএস–সংক্রান্ত জটিলতাকে দুষেছে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানটি।
তাদের এই দাবি নিয়ে এবার নড়েচড়ে বসেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে গত ২১ জুলাই ইনফোজিলিয়নের ইনফরমেশন সিস্টেম নীরিক্ষার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিটিআরসি। সভায় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী ইনফোজিলিয়নের পরিচালন পদ্ধতি নিরীক্ষা করানো এবং ব্যবহারকারীদের প্রতিবেদন পদ্ধতির সঠিকতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়েছেন কমিশনের অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব বিভাগের পরিচালক আফতাব মোঃ রাশেদুল ওয়াদুদ।
এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন বৈঠকে চারটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মাহমুদ হোসেনকে আহ্বায়ক করে ৭-১০ জন কর্মকর্তাকে নিয়ে গঠন করে নিরীক্ষার জন্য টার্মস অফ রেফারেন্স (টর) বা সেবার পরিধি নির্ণয়, সেবাদানে সম্মতি পত্র (ইওআই) এবং দরপত্র জমা দেওয়ার অনুরোধ (আরএফপি) প্রস্তুত করণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়াও ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আজম পারভেজের নেতৃত্বে দাপ্তরিক ব্যয় প্রাক্কলনে ৩ সদস্যের কমিটি এবং স্পেক্ট্রাম বিভাগের পরিচালক ড. সোহেল রানার নেতৃত্বে কমিশনের বাইরের একজনসহ ৩ সদস্যের দরপত্র উন্মুক্তকরণ কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। একইভাবে স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আমিনুল হকের নেতৃত্বে কমিশনের বাইরে থেকে ২জনসজ মোট ৭ সদস্যের দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইনফোজিলিয়নের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুস্তফা কামাল বলেন, কাগজ- কলমে হিসাব পরিবীক্ষণের পাশাপাশি এই সিদ্ধান্তের সুফল নির্ভর করবে বিটিআরসি’র সদিচ্ছার ওপর। টার্মস অব রেফারেন্সের ওপর। সেখানে কমপ্লায়েন্সের বিষয় কতটা অ্যাড্রেস করা হবে; ইন্ডাস্ট্রির বিকাশকে গুরুত্ব দেয়া হবে তার ওপর।
এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে এমএনপি সেবায় যে সিমট্যাক্স ধরা হয়েছে সেটা আন্তর্জাতিকভাবে ভালো চর্চা নয়। গ্রাহকের ওপর জুলুম হয়ে যায়। উচ্চ খরচের পাশাপাশি মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে অসহযোগিতারও অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি।
এদিকে কমিশনের বৈঠক সূত্রে প্রকাশ, কেবল ইনফোজিলিয়ন নয়; প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে বিদায়ী অর্থবছর পর্যন্ত এটিটিএন অপারেটর সামিট টেলিকম ও ফাইবার অ্যাটহোম; টাওয়ার শেয়ারিং অপারেটর ইডটকো বাংলাদেশ লিমিটেড, রাষ্ট্রায়ত্ব মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড এবং গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক এর অনিরীক্ষত সময়কালের নিরীক্ষার জন্য ফার্ম নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবি আজিয়েটা এবং ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাংলালিংক এর নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে ফলে। শুরু থেকে এমএনপি, এনটিটিএন ও ইডটকো’র এবং এমএনও-দের অনিরিক্ষত নিরীক্ষায় অডিটর খুঁজছে বিটিআরসি।






















