এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে সরকারি ও বেসরকারি খাতে দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ফলে পাবলিক ক্লাউড সেবার ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশন (আইডিসি) জানিয়েছে, ২০২৪ সালে এ অঞ্চলে পাবলিক ক্লাউড সেবার বাজার ছিল ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। ২০২৯ সালের মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়াবে ১৩ হাজার ১০০ কোটি ডলারে। এ সময়ে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির গড় চক্রবৃদ্ধির হার (সিএজিআর) হবে ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ।
আইডিসির ওয়ার্ল্ডওয়াইড সফটওয়্যার অ্যান্ড পাবলিক ক্লাউড সার্ভিসেস স্পেন্ডিং গাইড প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি, স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থিক খাতের নেতৃত্বে এ অঞ্চলে ক্লাউডভিত্তিক সেবাগ্রহণ দ্রুত বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ক্লাউড-ফার্স্ট কৌশল গ্রহণ করছে, যার মাধ্যমে তারা দক্ষতা, নিরাপত্তা ও উদ্ভাবনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্লাউড খাতে ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যাজ এ সার্ভিস (আইএএএস), প্লাটফর্ম অ্যাজ এ সার্ভিস (পিএএএস) ও সফটওয়্যার অ্যাজ এ সার্ভিসের (এসএএএস) ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। এসব সেবা এখন ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে এসএএএস অ্যাপ্লিকেশনের বাজার আগামী পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এআই প্রযুক্তির কারণে এসব অ্যাপ্লিকেশনে গ্রাহকসেবা, ব্যক্তিগতকরণ ও কার্যক্ষমতা বাড়বে।
আইডিসির ডাটা অ্যান্ড অ্যানালিটিকসের গবেষণা ব্যবস্থাপক মারিও অ্যালেন ক্লেমেন্ট বলেন, ‘যদিও পুরনো সিস্টেম স্থানান্তর ও দক্ষ জনবলের অভাব বড় চ্যালেঞ্জ, তবু এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রবৃদ্ধিতে ক্লাউড-নেটিভ প্রযুক্তি ও ডাটা আধুনিকায়নের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের ছবিটিই উঠে এসেছে । আর্থিক সেবা, খুচরা ব্যবসা ও টেলিযোগাযোগ খাতে প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি, যেখানে ক্লাউড এখন কার্যক্রমের মূলভিত্তি হয়ে উঠছে।’
টেলিযোগাযোগ ও ব্যাংক খাতে নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং প্রসারের কারণে ক্লাউড সেবা গ্রহণ সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। পাশাপাশি খুচরা ব্যবসা, ব্যক্তিগত সেবা এবং সরকারি খাতও ই-কমার্সের প্রসার ও ই-গভর্ন্যান্স উদ্যোগের কারণে দ্রুত এগোচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যসেবা ও টেকসই পণ্যের মতো খাতগুলো তুলনামূলক ধীরগতিতে ক্লাউড গ্রহণ করতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লাউড প্লাটফর্মে এআই সংযুক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমেই জটিল সেবা ব্যবস্থাপনায় বিশেষায়িত ক্লাউড ভেন্ডর ও ম্যানেজড সার্ভিস প্রদানকারীর ওপর নির্ভর করছে। এছাড়া শিল্পভিত্তিক সমাধান ও বিনিয়োগের রিটার্ন নিশ্চিত করার কৌশল এখন ক্লাউড সেবাদাতাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তবে প্রতিবেদনটি সতর্ক করেছে, যদি সার্ভার বা নেটওয়ার্কিং সরঞ্জামের মতো আমদানীকৃত প্রযুক্তিপণ্যে নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হয়, তবে ক্লাউড অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদে প্রবৃদ্ধি কিছুটা ধীর হতে পারে। তবে একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অবকাঠামো তৈরির বদলে বিদ্যমান বড় ক্লাউড সেবাদাতাদের ওপর নির্ভর করবে। এতে এ খাতের বড় সরবরাহকারীরাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে।
একই সঙ্গে হাইব্রিড ও মাল্টি-ক্লাউড কৌশলও জনপ্রিয় হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো সহজে অ্যাপ্লিকেশন স্থানান্তর করতে এবং ভিন্ন ভিন্ন প্লাটফর্মে কাজ চালাতে পারে। অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও সিঙ্গাপুরে প্রবৃদ্ধি আরো শক্তিশালী। কারণ এসব দেশে ডাটা রেসিডেন্সি ম্যান্ডেট ও সার্বভৌম ক্লাউডে বিনিয়োগ বাড়ছে।
যদিও মুদ্রাস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা স্বল্পমেয়াদি ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে। তবে আইডিসি মনে করছে, দীর্ঘমেয়াদে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল ক্লাউড-নেটিভ প্রযুক্তি ও ডাটা আধুনিকায়নের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করবে।





















