সম্প্রতি ডিপ্লোমা এবং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে যে বিরোধ দেখা যাচ্ছে, তা দেখে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এটি কোনোভাবেই পারস্পরিক প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি। দেশের একজন প্রকৌশলী এবং শিক্ষক হিসেবে আমি মনে করি, এই সমস্যাটির সমাধান আমাদের জাতীয় উন্নয়নের জন্যই অপরিহার্য।
দেশের সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরাই মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করে। তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকা স্বাভাবিক এবং তা দেশের জন্য খুবই ইতিবাচক। কিন্তু নবম গ্রেডের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের দশম গ্রেডের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে নিজেদের মেধা বা পদমর্যাদা নিয়ে পাল্লা দেওয়া কোনোভাবেই সুস্থ মানসিকতার পরিচায়ক নয়।
মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ডিপ্লোমা এবং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য সুনির্দিষ্ট গ্রেড ও পদমর্যাদা নির্ধারিত আছে।
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা ১০ম গ্রেড বা দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এরপর পদোন্নতির মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩৩% ৯ম গ্রেডে উন্নীত হতে পারেন।
বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা সরাসরি ৯ম গ্রেড বা প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরি শুরু করেন এবং পদোন্নতির মাধ্যমে প্রথম গ্রেড পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন।
তাহলে এই দুটি ধারাকে মুখোমুখি দাঁড় করানো কি যুক্তিযুক্ত?
সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পদটি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য নির্ধারিত। এই পদটি তাদের জন্য একটি সম্মানের জায়গা। বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের উচিত তাদের মেধা ও যোগ্যতাকে আরও বড় পরিসরে কাজে লাগানো।
আসুন, আমরা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে পরিপূরক হিসেবে কাজ করি। প্রতিটি শিক্ষাধারাই দেশের উন্নয়নে অপরিহার্য। আমাদের উচিত কর্মক্ষেত্র সংকুচিত করার চেষ্টা না করে, বরং নতুন নতুন কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করা।
আমি সকল তরুণ প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা নিজেদের হতাশ না করে গঠনমূলক কাজে মনোযোগ দিন। আসুন, আমরা নিজেদের মধ্যে বিভেদ না করে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের কারিগরি ও প্রকৌশল খাতকে আরও শক্তিশালী করি।
প্রকৌশলী মো: খোরশেদ আলম (সাবেক রুয়েটিয়ান)
অধ্যক্ষ,
ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট






















