আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে দেশে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এই উদ্যোগকে বানচাল করতে এবং নিজেদের ২০ হাজার কোটি টাকার অবৈধ বাজার বাঁচাতে এবার প্রবাসী বাংলাদেশিদের টার্গেট করেছে অবৈধ মোবাইল সিন্ডিকেট।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপে সিন্ডিকেটের সদস্যরা প্রচার চালাচ্ছে যে, “বিদেশ থেকে প্রবাসীরা শখ করে বা উপহার হিসেবে যে ফোন আনবেন, তা দেশে চলব না বা বন্ধ হয়ে যাবে।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি সম্পূর্ণ গুজব ও ভিত্তিহীন তথ্য। মূলত প্রবাসীদের মনে আতঙ্ক তৈরি করে সরকারকে চাপে ফেলা এবং এনইআইআর কার্যক্রম বিতর্কিত করাই এই অপপ্রচারের মূল লক্ষ্য।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অবৈধ মোবাইল ব্যবসায়ীদের পেইড এজেন্টরা ফেসবুক ও ইউটিউবে ভিডিও এবং পোস্টের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভুল বার্তা দিচ্ছে। তারা বলছে:
১. “আপনারা কষ্ট করে ফোন আনবেন, কিন্তু দেশে ঢোকার পর তা অকেজো হয়ে যাবে।”
২. “গিফট করা ফোন আর চলবে না, তাই বিদেশ থেকে ফোন আনা বন্ধ করুন।”
৩. “সরকার প্রবাসীদের পেটে লাথি মারছে।”
অথচ বিটিআরসি’র নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা আছে, প্রবাসীরা বিদেশ থেকে আসার সময় বৈধভাবে ফোন আনতে পারবেন এবং তা সহজেই নিবন্ধন করা যাবে।
আসল সত্য: ব্যাগেজ রুলের সুবিধা বিটিআরসি এবং কাস্টমসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন প্রবাসী বা বিদেশফেরত যাত্রী তার ব্যাগেজ রুলের আওতায়:
বিনা শুল্কে: ২টি স্মার্টফোন আনতে পারবেন।
শুল্ক দিয়ে: আরও ৬টি ফোন আনতে পারবেন। অর্থাৎ, মোট ৮টি ফোন আনার বৈধ সুযোগ রয়েছে। দেশে আসার পর পাসপোর্টের তথ্য বা ইমিগ্রেশন ডকুমেন্টস দিয়ে বিটিআরসির পোর্টালে বা অ্যাপে সহজেই এই ফোনগুলো এনইআইআর সিস্টেমে নিবন্ধন করা যাবে। একবার নিবন্ধিত হলে সেই ফোন দেশের যেকোনো সিমে আজীবন চলবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রবাসীরা যদি বিদেশ থেকে বৈধভাবে ফোন আনেন, তবে দেশের অবৈধ বা চোরাই মার্কেটের (যেমন মোতালেব প্লাজা বা রিয়াজউদ্দিন বাজার) বিক্রি কমে যায়।
সিন্ডিকেট চায় প্রবাসীরা যেন ফোন না আনে। প্রবাসীরা ফোন আনা বন্ধ করলে তাদের স্বজনদের বাধ্য হয়ে দেশের অবৈধ মার্কেট থেকে চড়া দামে নকল বা রিফারবিশড ফোন কিনতে হবে। এতে সিন্ডিকেটের ব্যবসা চাঙ্গা থাকবে।
আইসিটি মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসি সূত্র জানিয়েছে, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তাদের হয়রানি করা সরকারের উদ্দেশ্য নয়। এনইআইআর মূলত অবৈধ আমদানিকারক ও চোরাকারবারিদের ধরতে চালু হচ্ছে, ব্যক্তিগত পর্যায়ে ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য নয়।
বিটিআরসির এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রবাসীরা গুজবে কান দেবেন না। আপনারা ব্যাগেজ রুল মেনে ফোন আনুন এবং দেশে এসে নিবন্ধন করুন। কোনো সমস্যা হবে না। যারা ভয় দেখাচ্ছে, তারা মূলত চোরাকারবারি চক্রের সদস্য।”





















