বর্তমান সময়ে জ্বালানি সংকট এবং তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের জন্য খরচ সামলানো বেশ কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে কিছু সহজ ও কার্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে বাইকের তেলের খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব। সচেতন ব্যবহারই এখানে সবচেয়ে বড় সমাধান।
বাইক চালানোর ধরন
প্রথমেই আসা যাক চালানোর স্টাইল বা ধরনে। অনেকেই হঠাৎ করে দ্রুত অ্যাক্সিলারেশন দেন এবং ব্রেক করেন, যা ইঞ্জিনের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে এবং জ্বালানি বেশি খরচ হয়। ধীরে ধীরে গতি বাড়ানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গতি কমানো এই অভ্যাস গড়ে তুললে মাইলেজ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট গতিতে (৪০-৬০ কিমি/ঘণ্টা) বাইক চালানো সবচেয়ে বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী।
নির্দিষ্ট গতিতে চালানোর চেষ্টা করুন
বাইক খুব দ্রুত গতিতে বাড়ানো কিংবা হঠাৎ ব্রেক করা জ্বালানির অপচয় বাড়ায়। ধীরে ধীরে গতি বাড়ানো এবং মসৃণভাবে ব্রেক করলে পেট্রোল কম খরচ হয়। অতিরিক্ত গতিও জ্বালানি খরচ বাড়ায়। তাই সম্ভব হলে মাঝারি ও স্থির গতিতে গাড়ি চালানো ভালো। এতে ইঞ্জিনের ওপর চাপ কম পড়ে এবং পেট্রোল সাশ্রয় হয়।
অযথা ইঞ্জিন চালু রাখবেন না
ট্রাফিক সিগন্যাল বা কোথাও বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে ইঞ্জিন বন্ধ রাখা ভালো। দীর্ঘ সময় ইঞ্জিন চালু রেখে দাঁড়িয়ে থাকলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জ্বালানি নষ্ট হয়।
নিয়মিত সার্ভিসিং জরুরি
বাইকের নিয়মিত সার্ভিসিংও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইঞ্জিন অয়েল সময়মতো পরিবর্তন না করলে ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স কমে যায় এবং তেলের খরচ বেড়ে যায়। এয়ার ফিল্টার নোংরা হলে ইঞ্জিনে সঠিকভাবে বাতাস প্রবেশ করতে পারে না, ফলে জ্বালানি বেশি লাগে। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার বা পরিবর্তন করা উচিত।
টায়ারের চাপ
টায়ারের সঠিক চাপ বজায় রাখা অনেকেই অবহেলা করেন, কিন্তু এটি মাইলেজের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। টায়ারের চাপ কম থাকলে বাইক চালাতে বেশি শক্তি লাগে, ফলে জ্বালানি খরচ বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত টায়ারের চাপ পরীক্ষা করা জরুরি, বিশেষ করে গরমের সময়ে।
অতিরিক্ত ওজন এড়িয়ে চলুন
অপ্রয়োজনীয় ওজন বহন করাও তেলের খরচ বাড়ায়। বাইকে অতিরিক্ত ভারী জিনিস না রাখাই ভালো। একইভাবে দীর্ঘ সময় ট্রাফিকে দাঁড়িয়ে থাকলে ইঞ্জিন চালু না রেখে বন্ধ করে রাখা উচিত। এতে অযথা জ্বালানি নষ্ট হয় না।
সঠিক গিয়ার ব্যবহার
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক গিয়ার ব্যবহার। কম গতিতে বেশি গিয়ার বা বেশি গতিতে কম গিয়ার ব্যবহার করলে ইঞ্জিনে চাপ পড়ে এবং জ্বালানি বেশি খরচ হয়। তাই গতি অনুযায়ী গিয়ার পরিবর্তনের অভ্যাস করা দরকার।
ভালো মানের জ্বালানি
ভালো মানের জ্বালানি ব্যবহার করাও জরুরি। নিম্নমানের তেল ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের ক্ষতি হয় এবং মাইলেজ কমে যায়। ফলে খরচও বাড়ে। সম্ভব হলে নির্ভরযোগ্য পাম্প থেকে জ্বালানি নেওয়া উচিত।
বাইকের তেলের খরচ কমানো কোনো কঠিন কাজ নয় এটি পুরোপুরি নির্ভর করে ব্যবহারকারীর সচেতনতা ও অভ্যাসের ওপর। সামান্য কিছু পরিবর্তন এনে আপনি মাসে ভালো পরিমাণ টাকা সাশ্রয় করতে পারেন, যা বর্তমান জ্বালানি সংকটের সময়ে অনেকটাই স্বস্তি দিতে পারে।



















