বাংলাদেশে প্রস্তুতকৃত মোটরসাইকেল এবার পাড়ি জমাচ্ছে উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে। যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড (বিএইচএল) তাদের উৎপাদিত নতুন ‘হোন্ডা এনএক্স২০০’ (Honda NX200) মডেলের মোটরসাইকেল মেক্সিকোতে রফতানির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের শিল্পোৎপাদন ও অটোমোবাইল খাতের উচ্চ সক্ষমতা পুনরায় প্রমাণিত হলো।
বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন (বিএসইসি) এবং জাপানের হোন্ডা মোটর কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে বিএইচএল। ২০২৪ সালে মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালায় ‘হোন্ডা এক্স ব্লেড’ রফতানির মধ্য দিয়ে বিএইচএল তাদের আন্তর্জাতিক বাজারজাতকরণ শুরু করেছিল। গুয়াতেমালার অভূতপূর্ব সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার মেক্সিকোর মতো বড় বাজারে প্রবেশ করল প্রতিষ্ঠানটি।
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার আবদুল মোনেম ইকোনমিক জোনে অবস্থিত বিএইচএলের আধুনিক মোটরসাইকেল কারখানায় গত ৩১ জুলাই, বৃহস্পতিবার এক জমকালো অনুষ্ঠানে এই রফতানি কার্যক্রমের উন্মোচন করা হয়। ১ আগস্ট গণাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান বলেন, “মেক্সিকোতে বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেডের হোন্ডা এনএক্স২০০ রফতানি দেশের রফতানি বহুমুখীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈশ্বিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রে একটি বড় অর্জন। সরকার ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সুসংহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বিএইচএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সুসুমু মরিসাওয়া (Susumu Morisawa) বলেন, “উৎপাদন সক্ষমতার উন্নতি ও মান নিয়ন্ত্রণের ফলস্বরূপ মেক্সিকোতে হোন্ডা এনএক্স২০০ রফতানি সম্ভব হয়েছে। রফতানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আমরা স্থানীয় যন্ত্রাংশ সংযোজন ও উৎপাদন দক্ষতা আরও বৃদ্ধি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) শাহ মুহাম্মদ আশেকুর রহমান উল্লেখ করেন যে, অভ্যন্তরীণ বাজার বিএইচএলের মূল অগ্রাধিকার হলেও আন্তর্জাতিক রফতানি বৃদ্ধি দেশের শিল্পায়ন, প্রযুক্তিগত উন্নতি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
অনুষ্ঠানে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাফসা নাদিয়া সহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও শুল্ক কর্তৃপক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



















