সাশ্রয়ী Moto G সিরিজ থেকে শুরু করে প্রিমিয়াম Edge, ফ্ল্যাগশিপ Signature এবং Razr-এর ফোল্ডেবল সিরিজ—২০২৬ সালে স্মার্টফোনের প্রায় প্রতিটি শ্রেণিতেই নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে মোটোরোলা। একই ব্র্যান্ডের একাধিক ফোনে কাছাকাছি স্পেসিফিকেশন থাকলেও ক্যামেরা, প্রসেসর, ব্যাটারি, ডিসপ্লে ও দামের পার্থক্যের কারণে কোন মডেলটি কার জন্য উপযোগী, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই বিভ্রান্তি রয়েছে।
ব্যবহারকারীর প্রয়োজন, পারফরম্যান্স, ক্যামেরা, ব্যাটারি ও বাজেট বিবেচনায় ২০২৬ সালের মোটোরোলার উল্লেখযোগ্য ছয়টি স্মার্টফোন তুলে ধরা হলো।
১. মোটোরোলা সিগনেচার ২৭
ট্রু-ফ্ল্যাগশিপের জন্য
দীর্ঘ সময় পর ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন বাজারে মোটোরোলার শক্তিশালী প্রত্যাবর্তনের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে Motorola Signature 27-কে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির আল্ট্রা-ফ্ল্যাগশিপ Snapdragon 8 Elite Extreme Gen 6 চিপসেট। ফোনটিতে সর্বোচ্চ ১৬ জিবি র্যাম ও ১ টেরাবাইট UFS 4.1 স্টোরেজ পাওয়া যায়।
দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার ব্যবহারের জন্য রয়েছে সাতটি প্রধান অ্যান্ড্রয়েড ওএস আপডেটের প্রতিশ্রুতি।
ক্যামেরা বিভাগেও রয়েছে বড় ধরনের আপগ্রেড। এতে ১/১.২৮ ইঞ্চি সেন্সরের ৫০ মেগাপিক্সেল OIS মেইন ক্যামেরার পাশাপাশি ২০০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফোটো ক্যামেরা রয়েছে। অডিওর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে Bang & Olufsen-টিউনড প্রফেশনাল স্পিকার।
২. মোটোরোলা এজ ৭০ প্রো
অল-রাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য
Edge 70 সিরিজের মধ্যে Pro মডেলটি পারফরম্যান্স, ক্যামেরা ও ব্যাটারির ভারসাম্যের কারণে অল-রাউন্ডার হিসেবে নজর কেড়েছে। এতে রয়েছে ৬.৭৮ ইঞ্চির ১৪৪Hz OLED ডিসপ্লে, যার সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ৫,২০০ নিটস।
ফোনটির প্রসেসিং ক্ষমতা জোগায় MediaTek Dimensity 8500 Extreme চিপসেট এবং এটি Android 16-এ পরিচালিত হয়।
ক্যামেরার ক্ষেত্রে পেছনে তিনটি ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা রয়েছে—মেইন, ৩.৫x পেরিস্কোপ টেলিফোটো ও আল্ট্রা-ওয়াইড। সামনে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা।
ব্যাটারি হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে ৬,৫০০mAh সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি, সঙ্গে রয়েছে ৯০ ওয়াট দ্রুতগতির তারযুক্ত চার্জিং।
৩. মোটোরোলা মোটো জি৮৭
কম বাজেটের জন্য
সাশ্রয়ী দামে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য Moto G87 হতে পারে মোটোরোলার অন্যতম আকর্ষণীয় মডেল। এতে রয়েছে ৬.৭৮ ইঞ্চির ১.৫কে AMOLED ডিসপ্লে এবং ১২০Hz রিফ্রেশ রেট। ডিসপ্লের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ৫,০০০ নিটস।
ফোনটিতে ৫জি সমর্থিত MediaTek Dimensity 6400 চিপসেট, সর্বোচ্চ ১২ জিবি র্যাম এবং Android 16 রয়েছে।
ক্যামেরা বিভাগে ফোনটির সবচেয়ে বড় চমক ২০০ মেগাপিক্সেলের OIS মেইন সেন্সর। এর সঙ্গে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড ও ৩২ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা। সেলফি ক্যামেরায় ১৪৪০পি ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধাও রয়েছে।
৪. মোটোরোলা সিগনেচার
দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের জন্য
ফ্ল্যাগশিপ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার সাপোর্ট চান এমন ব্যবহারকারীদের জন্য Motorola Signature একটি উল্লেখযোগ্য বিকল্প।
ফোনটিতে রয়েছে ৬.৮ ইঞ্চির ১.৫কে LTPO AMOLED ডিসপ্লে, ১৬৫Hz রিফ্রেশ রেট এবং সর্বোচ্চ ৬,২০০ নিটস উজ্জ্বলতা। পারফরম্যান্সের জন্য রয়েছে Qualcomm Snapdragon 8 Gen 5 চিপসেট।
মোটোরোলার পক্ষ থেকে এতে সাত বছরের ওএস সাপোর্ট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ক্যামেরায় ব্যবহার করা হয়েছে ১/১.২৮ ইঞ্চি সেন্সরের ৫০ মেগাপিক্সেলের মেইন ক্যামেরা এবং ৫০ মেগাপিক্সেলের টেলিফোটো ক্যামেরা।
৫. মোটোরোলা রেজার ফোল্ড
মাল্টিটাস্কিং ও প্রোডাক্টিভিটির জন্য
বুক-স্টাইল ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে Motorola Razr Fold নিয়ে এসেছে নতুন মাত্রা। ফোনটি খোলা অবস্থায় ৮.১ ইঞ্চির LTPO P-OLED ইনার ডিসপ্লে এবং বাইরে ৬.৬ ইঞ্চির ১৬৫Hz কভার ডিসপ্লে দেয়। খোলা অবস্থায় ফোনটির পুরুত্ব মাত্র ৪.৭ মিলিমিটার।
পারফরম্যান্সের জন্য রয়েছে Snapdragon 8 Gen 5 চিপসেট। সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে Bose-টিউনড স্টেরিও স্পিকার ও স্টাইলাস পেন সাপোর্ট।
ব্যাটারি হিসেবে রয়েছে ৬,০০০mAh সেল। এটি ৮০ ওয়াট তারযুক্ত এবং ৫০ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং সমর্থন করে।
৬. মোটোরোলা রেজার ৭০ আল্ট্রা
ফ্লিপ-ফোনপ্রেমীদের জন্য
স্টাইলিশ ক্ল্যামশেল ডিজাইন ও ফ্ল্যাগশিপ পারফরম্যান্সের সমন্বয় চান এমন ব্যবহারকারীদের জন্য Razr 70 Ultra অন্যতম আকর্ষণীয় মডেল।
ফোনটির ভেতরে রয়েছে ৭ ইঞ্চির LTPO AMOLED ডিসপ্লে এবং বাইরে ৪ ইঞ্চির পূর্ণাঙ্গ কভার ডিসপ্লে। দুটি প্যানেলই ১৬৫Hz রিফ্রেশ রেট সমর্থন করে।
পারফরম্যান্সের জন্য রয়েছে Snapdragon 8 Elite চিপসেট। পেছনে দুটি ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা এবং সামনে ৫০ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা রয়েছে। ব্যাটারি হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে ৫,০০০mAh ক্ষমতার সেল, সঙ্গে ৬৮ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং।
কোনটি কার জন্য?
ফ্ল্যাগশিপ পারফরম্যান্স ও ক্যামেরাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিলে Motorola Signature 27 এগিয়ে। ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্স, ক্যামেরা ও ব্যাটারির জন্য Edge 70 Pro ভালো বিকল্প। কম বাজেটে শক্তিশালী ডিসপ্লে ও ক্যামেরা চাইলে Moto G87 বিবেচনায় রাখা যায়।
দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার সাপোর্ট চাইলে Motorola Signature, বড় স্ক্রিনে মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য Razr Fold এবং ফ্লিপ ডিজাইনের সঙ্গে ফ্ল্যাগশিপ অভিজ্ঞতার জন্য Razr 70 Ultra বেছে নেওয়া যেতে পারে।





















