যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত মন্টেরি কার উইকের এবারের নিলামে দুর্লভ ও সংগ্রহযোগ্য গাড়ির বিক্রিতে নতুন রেকর্ড হয়েছে। নিলামে মোট ৭৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার মূল্যের গাড়ি বিক্রি হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ বেশি।
গত বছর একই আয়োজনে সংগ্রহযোগ্য গাড়ি বিক্রি হয়েছিল ৪৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারের। এবারের বিক্রি ২০২২ সালে হওয়া আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরি উপদ্বীপে প্রতিবছর আয়োজিত হয় মন্টেরি কার উইক। দুর্লভ, ঐতিহাসিক ও সংগ্রহযোগ্য গাড়ির প্রদর্শনী ও নিলামের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই আয়োজনটি। এবারও ধনকুবের ও বিলাসবহুল গাড়ির সংগ্রাহকদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।
নিলামের মোট বিক্রির বড় অংশ এসেছে হাতে গোনা কয়েকটি গাড়ি থেকে। সবচেয়ে দামি ১০টি গাড়ি বিক্রি হয়েছে মোট ২২ কোটি ৩০ লাখ ডলারে, যা পুরো নিলামের প্রায় ৩০ শতাংশ।
৪ কোটি ২৯ লাখ ডলারে শেলবি কোবরা
এবারের নিলামে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে ১৯৬৪ সালের শেলবি কোবরা ডেটোনা কুপে। গুডিং ক্রিস্টিজের নিলামে গাড়িটির দাম উঠেছে ৪ কোটি ২৯ লাখ ডলার।
গুডিং ক্রিস্টিজের জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ ডেভিড ব্রাইনান বলেন, কোনো গাড়ির মূল্য নির্ধারণে সেটির ইতিহাস ও মালিকানার ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং নির্ভরযোগ্য মালিকানা-ইতিহাস থাকলে সংগ্রাহকদের কাছে গাড়িটির মূল্য অনেক বেড়ে যায়।
৪ কোটি ডলারে ফেরারি লুচে
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হয়েছে ফেরারি লুচে ‘চ্যাসিস ০’। আরএম সদবি’সের নিলামে গাড়িটির দাম উঠেছে ৪ কোটি ডলার।
ফেরারির প্রথম পূর্ণ বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির বিশেষ সংস্করণ হিসেবে পরিচিত এই গাড়িটি কিনেছেন মার্কিন ধনকুবের হারবার্ট এ ওয়ার্থহেইম।
ম্যাকলারেন এফ১ জিটিআরের দাম ৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলার
তৃতীয় সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হয়েছে ১৯৯৬ সালের ম্যাকলারেন এফ১ জিটিআর। আরএম সদবি’সের নিলামে গাড়িটির দাম উঠেছে ৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলার।
এই বিক্রির মাধ্যমে ম্যাকলারেন এফ১ এবং ব্রিটিশ গাড়ির ক্ষেত্রে নতুন নিলাম রেকর্ড তৈরি হয়েছে।
নিলামে ফেরারির আধিপত্য
এবারের মন্টেরি কার উইকের সবচেয়ে দামি ১০টি গাড়ির মধ্যে সাতটিই ফেরারি। ফলে দুর্লভ ও ঐতিহাসিক গাড়ির বাজারে ইতালীয় এই ব্র্যান্ডটির আধিপত্য আবারও স্পষ্ট হয়েছে।
তবে এবারের নিলামের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল আধুনিক গাড়ির চাহিদা। মোট বিক্রির অর্ধেকের বেশি এসেছে তুলনামূলক নতুন গাড়ি থেকে। এতে বোঝা যাচ্ছে, শুধু পুরনো ক্লাসিক গাড়ি নয়, ১৯৮০-এর দশকের পর তৈরি সুপারকারগুলোর প্রতিও সংগ্রাহকদের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে।





















