কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা গাড়িতে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন এ শুল্ক কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে জাপানের দুই গাড়ি নির্মাতা টয়োটা ও হোন্ডা। কানাডায় মোট উৎপাদিত গাড়ির ৭৫ শতাংশের বেশি তৈরি করে টয়োটা ও হোন্ডা। ফলে শুল্কের বাড়তি ব্যয় দুই কোম্পানির ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত শুল্ক আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হলে টয়োটা ও হোন্ডাকে কানাডার কয়েকটি উৎপাদন লাইন বন্ধও করতে হতে পারে। কানাডায় উৎপাদিত গাড়ির বাজারে প্রতিষ্ঠান দুটির অবস্থান শক্তিশালী। দেশটির মোট গাড়ি উৎপাদনের তিন-চতুর্থাংশের বেশি টয়োটা ও হোন্ডার দখলে।
যুক্তরাষ্ট্র টয়োটা ও হোন্ডার সবচেয়ে বড় বাজার। এ বাজারে চীনের বিওয়াইডির মতো প্রতিদ্বন্দ্বী গাড়ি নির্মাতাদের প্রবেশ নেই। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কানাডায় তৈরি গাড়ির ওপর প্রতিষ্ঠান দুটির নির্ভরতা বেশি।
বার্কলেসের বিশ্লেষকদের হিসাবে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে হোন্ডার মোট বিক্রির প্রায় এক-চতুর্থাংশ ছিল কানাডায় তৈরি গাড়ি। টয়োটার ক্ষেত্রে এ হার ছিল ১৭ শতাংশ। ফলে কানাডা থেকে আমদানি করা গাড়িতে শুল্ক ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হলে টয়োটা ও হোন্ডাই বড় ধাক্কা খেতে পারে।
লন্ডনভিত্তিক পেলহাম স্মিথার্স অ্যাসোসিয়েটসের গাড়িবিষয়ক বিশ্লেষক জুলি বুট বলেন, ‘কানাডার গাড়ি শিল্পকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলতে চাইলে এ শুল্ক কার্যকর করা যথেষ্ট। ফলে টয়োটা ও হোন্ডাকে কানাডার কয়েকটি সংযোজন কারখানার উৎপাদন বন্ধ করতেও হতে পারে।’
কানাডার গাড়ি শিল্পে বছরে প্রায় ১২ লাখ গাড়ি উৎপাদন হয়। খাতটির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৪ লাখ ২৭ হাজার কর্মসংস্থান যুক্ত। টয়োটা দেশটিতে যেসব গাড়ি তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠায়, তার মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় এসইউভি র্যাভ৪। হোন্ডা কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠায় সিআর-ভি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোকে ঘিরে গাড়ি নির্মাতারা একটি সমন্বিত উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ি কোম্পানি ও যন্ত্রাংশ সরবরাহকারীরা সীমান্ত পেরিয়ে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালনা করে আসছে।
কিন্তু সাম্প্রতিক মার্কিন শুল্কনীতিতে সে হিসাব বদলে গেছে। গত অর্থবছরে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের কারণে টয়োটার প্রায় ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৮৮০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে টয়োটা। অন্যদিকে লোকসানে থাকা গাড়ি ব্যবসাকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে হোন্ডা।






















