২০২৪-২৫ অর্থবছরে সুপারশপ খাতে বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহের সময় সরবরাহের বিপরীতে উৎসে কর ও উৎসে ভ্যাট থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৪০ কোটি টাকা। নূন্যতম করের মাধ্যমে আদায় হয়েছে সাড়ে ১৪ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই খাতের ভ্যাট কাঠামো সংস্কার করায় সুপারমার্কেটগুলোর বিক্রি বেড়েছে। বর্তমান ন্যূনতম কর এই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্থ করছে। অর্থ অধ্যাদেশ ২০২৫-এর আওতায় ন্যূনতম করের হার শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করার এ খাতের বিনিয়োগ কমেছে।
রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ সুপারমার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশের আধুনিক রিটেইল খাতের উন্নয়ন: প্রতিবন্ধকতা, উত্তরণের উপায় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। বৈঠকে সহযোগিতা করেন এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেড।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ও সঞ্চালনা করেন এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর স্নেহাশীষ বড়ুয়া। এতে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কর নীতি) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, বাংলাদেশ সুপারমার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, স্বপ্ন-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির, ব্রামার অ্যান্ড পার্টনার্স (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুয়াল্লেম আহমেদ চৌধুরী, ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাসুদ খান, ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ বাংলাদেশ সভাপতি কাউসার আলম, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম সভাপতি দৌলত আক্তার মালা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সাবেক সদস্য (কর নীতি) অপূর্ব কান্তি দাস প্রমুখ।
মূল প্রবন্ধে এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, ‘যুক্তরাজ্যে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ, স্পেনে ৬৫ শতাংশ, ফ্রান্সে ৬০ শতাংশ, জার্মানিতে ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ, জাপানে ৬০ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়াতে ৫৫ শতাংশ, চীনে ৫০ শতাংশ, ভারতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মানুষ সুপারশপে কেনাকাটা করে।’
পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সুপারশপ খাতে মুনাফার সীমা এক থেকে তিন শতাংশে সীমাবদ্ধ। সেখানে এক শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্স এই শিল্পের প্রকৃত মুনাফার ওপর বড় আঘাত। বাংলাদেশের এ নীতি মোট আয়ের প্রায় ৬৮ শতাংশই নিঃশেষ করে দেয়। ফলে এই শিল্পে খাতে পুনঃবিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।’
এসময় বাংলাদেশ সুপারমার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, ‘কর কমানো হলে সুপার মার্কেটের সম্প্রসারণ বাড়বে। এতে সরকারের বিভিন্ন খাত থেকে রাজস্ব আয়ও বাড়বে। সরকারি নীতিগত সহায়তার অভাবে বাংলাদেশে এই খাত প্রত্যাশা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে পারেনি। অনেক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও এই খাতটি এগিয়ে যাচ্ছে। ভতুর্কি দিয়ে হলেও মালিকরা ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন।’ তিনি জানান, ‘২০০৪ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে প্রায় ৩৫টি কোম্পানি এই ব্যবসায় যুক্ত হলেও ২০০৭ সালে সরকার পরিবর্তনের পর ১২টি সুপারশপ বন্ধ হয়ে যায়।’
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) করনীতি বিভাগের সদস্য ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, ‘রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে যেভাবে ব্যবসায়ে লাভ না হলেও বিক্রির ওপর ন্যূনতম কর নেওয়া হচ্ছে, তা আয়কর আইনের সঙ্গে কোনোভাবেই যায় না। বর্তমানে প্রচলিত ন্যূনতম কর পদ্ধতি প্রগতিশীল কর দর্শনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটি সরকারের জন্যও খুব বেশি আনন্দের বিষয় নয়। এই কর হার কমানোর বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এটি কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।’


















