প্রিমিয়ার ব্যাংকের তিন মাসে শেয়ারপ্রতি শূন্য দশমিক ৮৭ টাকা করে নিট লোকসান হয়েছে ১০৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ব্যাংকটির আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি শূন্য দশমিক ২৩ টাকা করে নিট ২৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা মুনাফা ছিল। এ হিসাবে ব্যাংকটির ব্যবসায় পতন ১৩৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বা ৪৮৭ শতাংশ। নিট সুদজনিত আয় ও অন্যান্য আয় কমাকে মুনাফায় এই পতনের কারণ হিসেবে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তবে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র বলেছে, ঋণ বিতরণে অনিয়ম ও আয় সংকোচনের প্রভাবে আর্থিকভাবে চাপে পড়ায় এই লোকসান হয়েছে।
ব্যাংকটির আগের বছরের প্রথম ৩ মাসে নিট সুদজনিত আয় ৯৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা থাকলেও এ বছরের একই সময়ে তা ঋণাত্মক ১২৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। চলতি বছরের ৩ মাসে গ্রাহকদের আমানতের পেছনে ব্যাংকটির সুদজনিত ব্যয় ৬৯৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা। একই সময়ে প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে সুদজনিত আয় ৫৭২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ফলে ব্যাংকটির নিট সুদজনিত আয়ের পরিবর্তে ১২৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকার লোকসান।
আগের বছর বিনিয়োগ থেকে ১৪৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা আয় হলেও এ বছরে তা কমে ১০৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অপরিচালন আয় ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা থেকে কমে ২৬ কোটি টাকা। তবে ৪৯ কোটি ৬১ লাখ টাকার কমিশন আয় বেড়ে এ বছরের প্রথম ৩ মাসে ৬৬ কোটি ৯ লাখ টাকা। ব্যবসায় পতনে থাকা ব্যাংকটির পরিচালন ব্যয় আগের বছরের ৩ মাসের ২২৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা থেকে কমে হয় ১৭৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। বেতনাদি বাবদ খরচ ১০৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা থেকে কমে নেমে এসেছে ৮৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকায়।
১ হাজার ২৩৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের প্রিমিয়ার ব্যাংকে ৭০৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকার ঋণাত্মক সংরক্ষিত মুনাফা। গত ৩১ মার্চ ব্যাংকটি থেকে প্রদত্ত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৭৯৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এ ছাড়া সরকারি সিকিউরিটিজে ৩ হাজার ৭৬৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা ও অন্যান্য খাতে ১ হাজার ৩৯২ কোটি ৮২ লাখ টাকার বিনিয়োগ। এর বিপরীতে ব্যাংকটিতে গ্রাহকদের মুদারাবা সেভিংস ডিপোজিট ২ হাজার ৭৭০ কোটি ৯০ লাখ টাকা, ১৩ হাজার ৪৯৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট ও ১৩ হাজার ৫০৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকার চলতি ডিপোজিট রয়েছে।





















