সুশাসন নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবার প্রসার এবং দীর্ঘমেয়াদী টেকসই মূলধন কাঠামো তৈরির অঙ্গীকার নিয়ে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)-এর ৪৩তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে ১১ জুন, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শরীফ জহীর। সভায় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শেয়ারহোল্ডাররা উপস্থিত ছিলেন। অর্থনৈতিক নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও গত বছরে ব্যাংকের অভাবনীয় ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের সাফল্য সভায় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালে ইউসিবি আমানত প্রবৃদ্ধিতে নতুন রেকর্ড গড়েছে, যেখানে ব্যাংকটির আমানত প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৩ শতাংশ—যা দেশের ব্যাংকিং খাতের গড় ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। বর্তমানে ব্যাংকের মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৮ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকায়। দক্ষ তারল্য ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ঋণ-আমানত অনুপাত ৯১.৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে। এছাড়া, কঠোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও বিশেষ তৎপরতার মাধ্যমে শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১৫.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে এবং রাইট-অফ ঋণ থেকে ১১৪ কোটি টাকা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
ব্যাংকিং সেবায় প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ইউসিবি বর্তমানে দেশের প্রথম মাইক্রোসার্ভিসভিত্তিক ‘ওপেন এপিআই ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম’ ও ‘ইউসিবি ওয়ান’ অ্যাপের মতো ডিজিটাল টুলস ব্যবহার করছে। এর ফলে ব্যাংকের মোট লেনদেনের প্রায় ৬৫ শতাংশই এখন ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। ইসলামি ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিং খাতেও ব্যাংকটি অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছে। সুশৃঙ্খল ব্যয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালন ব্যয় ৯৭ কোটি টাকা কমিয়ে আনার এই কৃতিত্বকে ব্যাংকের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন নীতিনির্ধারকরা। সভায় শেয়ারহোল্ডাররা ব্যাংকের এই প্রবৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাংকের নেওয়া কৌশলগুলোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।






















