ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি), অনুমোদন বা তাৎক্ষণিক নোটিফিকেশন ছাড়াই ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেডের বিরুদ্ধে। একাধিক গ্রাহকের এমন অভিযোগের পর ব্যাংকটির ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা ‘সিটিটাচ’ এবং সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অননুমোদিত লেনদেনের পর ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেও দ্রুত সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো ঘটনায় দীর্ঘ সময় ধরে তদন্তের কথা বলা হলেও গ্রাহকদের সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
চুরি যাওয়া ফোনে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন
সুমাইয়া মিম নামের এক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, ই-সিম চালু থাকা তার স্মার্টফোন ছিনতাই হওয়ার পর সিটি ব্যাংকের হিসাব থেকে ‘ক্যাশ বাই কোড’ সুবিধা ব্যবহার করে প্রায় এক লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়।
তার দাবি, সিটিটাচ অ্যাপে ফেস আইডি নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু ছিল এবং ব্যাংক কার্ডের পিনও অন্য কারও জানা ছিল না। এরপরও কীভাবে চুরি যাওয়া ফোন ব্যবহার করে ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে এটিএম থেকে অর্থ উত্তোলন করা হলো, সে বিষয়ে ব্যাংকের কাছ থেকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাননি তিনি।
ঘটনার পর অ্যাকাউন্টটি প্রায় ছয় মাস লক করে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এটিএম বুথের সিসিটিভি ফুটেজ একাধিকবার চেয়েও তা পাননি বলে জানান ওই গ্রাহক।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরলে ব্যাংকের বনানী শাখার ব্যবস্থাপকসহ কয়েকজন কর্মকর্তা পোস্টটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ দেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
গ্রাহকের ভাষ্য, ই-মেইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমাধান চাইলেও ২৫ দিন পার হওয়ার পরও ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব বা সমাধান দেওয়া হয়নি।
ওটিপি ছাড়াই ২,৫১৮ টাকা কাটার অভিযোগ
এদিকে এমডি সাইমান খোকন নামের আরেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, কোনো ওটিপি, অনুমোদন কিংবা নোটিফিকেশন ছাড়াই তার ব্যাংক হিসাব থেকে ২ হাজার ৫১৮ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি জানতে ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করলে তদন্ত ও সমাধানের জন্য তাকে ১২০ কর্মদিবস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, একই ধরনের ঘটনায় কিছুদিন আগে তার এক বন্ধুর হিসাব থেকেও ২৫ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়েছিল।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ
পরপর এমন অভিযোগ সামনে আসায় গ্রাহকের অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় ব্যাংকের ডিজিটাল নিরাপত্তা কাঠামো কতটা কার্যকর, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে ডিভাইস হারানো বা সিম-সংক্রান্ত পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং অ্যাপ, ক্যাশ বাই কোড, এটিএম এবং গ্রাহকের পরিচয় যাচাইয়ের বিভিন্ন স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সিটি ব্যাংকের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা, অননুমোদিত লেনদেন কীভাবে সংঘটিত হয়েছে এবং ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না—তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগীরা জানান, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সন্তোষজনক সমাধান না পেলে তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থায় অভিযোগ এবং প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।




















