দেশের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান বিকাশের বিভিন্ন নীতিমালা, লেনদেন সীমা, চার্জ এবং এজেন্ট ব্যবস্থাপনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রাহক ও এজেন্ট ব্যবসায়ীদের অনেকে।
এজেন্টদের একাংশের অভিযোগ, ডিস্ট্রিবিউটর ও সেলস কর্মকর্তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের চাপের প্রভাব পড়ছে তাদের ব্যবসায়। অন্যদিকে কিছু গ্রাহকের অভিযোগ, নির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট না করেই তাদের অ্যাকাউন্টে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (NPSB) ও বাংলা কিউআর–এর মতো সেবা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
টার্গেট পূরণে ডিপিএসের চাপের অভিযোগ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোবায়ের আহমেদ খান নামে এক এজেন্ট ব্যবসায়ীর একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সেখানে তিনি ডিস্ট্রিবিউটর ও সেলস কর্মকর্তাদের চাপ এবং হয়রানির অভিযোগ তোলেন।
এজেন্টদের কয়েকজনের দাবি, বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে তাদের নিজস্ব অর্থ দিয়ে মাসে ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিপিএস খোলার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ না হলে ব্যবসায়িক লেনদেন বা বি-টু-বি সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাদের।
কিছু ব্যবসায়ী আরও অভিযোগ করেছেন, কোনো দোকানে অন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বাংলা কিউআর থাকলে তাদের বিকাশ এজেন্ট বা মার্চেন্ট হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
একই ব্যক্তির নামে এজেন্ট ও মার্চেন্ট—দুই ধরনের হিসাব থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ।
NPSB নিয়ে গ্রাহকদের প্রশ্ন
গ্রাহকদের একটি অংশের অভিযোগ, বিকাশ অ্যাপ থেকে NPSB ব্যবহার করে ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠানোর পর তাদের এই সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ‘অস্বাভাবিক’ বা ‘সন্দেহজনক’ লেনদেনের কারণ দেখানো হলেও সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি তাদের।
অভিযোগকারীদের কেউ কেউ বলছেন, তুলনামূলক কম খরচের NPSB সেবা বন্ধ হয়ে গেলে বিকাশ থেকে ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠাতে তাদের বিকল্প সেবায় বেশি চার্জ দিতে হচ্ছে।
তাদের দাবি, NPSB লেনদেনে যেখানে প্রতি হাজার টাকায় তুলনামূলক কম খরচ হয়, সেখানে বিকাশের অন্য পদ্ধতিতে ব্যাংকে টাকা পাঠানো বা এজেন্টের মাধ্যমে ক্যাশ আউট করতে বেশি অর্থ ব্যয় হয়।
বাংলা কিউআর নিয়েও অভিযোগ
বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে চালু হওয়া আন্তঃব্যবহারযোগ্য বাংলা কিউআর নিয়ে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যেও নানা প্রশ্ন রয়েছে।
কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, বাংলা কিউআর ব্যবহার করে লেনদেনের পর তাদের অ্যাকাউন্টে এই সুবিধা সীমিত বা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তারা পরিষ্কার তথ্য পাননি বলে দাবি করেছেন।
চার্জ ও সেবা নিয়ে অসন্তোষ
বিকাশের ক্যাশ আউট ও সেন্ড মানি চার্জ নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত সমালোচনা দেখা যাচ্ছে।
অভিযোগকারীদের কেউ কেউ প্রতি হাজার টাকায় ১৮ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত ক্যাশ আউট চার্জ এবং নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে সেন্ড মানিতে অতিরিক্ত চার্জ আরোপকে বেশি বলে মনে করছেন।
বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমার পর অতিরিক্ত ফি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে কিছু গ্রাহকের।
নিরাপত্তা নিয়েও অভিযোগ
কিছু গ্রাহক আবার প্রতারণা ও অ্যাকাউন্ট নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, পিন বা ওটিপি–সংক্রান্ত প্রতারণার ঘটনায় অর্থ খোয়া যাওয়ার পর অভিযোগ নিষ্পত্তিতে তারা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি।
তবে এ ধরনের ঘটনায় অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা, ব্যবহারকারীর অসতর্কতা, তৃতীয় পক্ষের প্রতারণা এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভূমিকা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপ দাবি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুব্ধ গ্রাহক ও এজেন্টদের কেউ কেউ বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
তাদের বক্তব্য, কোনো সেবা বন্ধ বা সীমিত করার ক্ষেত্রে গ্রাহককে স্পষ্ট কারণ জানানো, এজেন্টদের ওপর ব্যবসায়িক চাপের অভিযোগ তদন্ত করা এবং চার্জ ও নীতিমালার বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিকাশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।


















