ট্রেড লাইসেন্সের ভিত্তিতে যৌথ প্রতিষ্ঠানের জন্য কারেন্ট প্লাস অ্যাকাউন্ট (Current Plus Account) খুলতে গিয়ে সিটি ব্যাংকের শাখা ও হেল্পলাইনের কাছ থেকে অসংগতিপূর্ণ তথ্য ও সেবায় ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন এক গ্রাহক।
ফাহিম শাহরিয়ার নামের ওই গ্রাহকের দাবি, অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া নিয়ে টানা ১৫ দিন ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তিনি সঠিক ও নির্ভুল নির্দেশনা পাননি। এ সময় একাধিকবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরিবর্তন করতে বলা এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
গ্রাহকের অভিযোগ অনুযায়ী, যৌথ অ্যাকাউন্ট খোলার শুরুতেই ব্যাংক কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে এফিডেভিট তৈরি করেন তিনি। পরে ব্যাংকের পক্ষ থেকে সেটি গ্রহণযোগ্য নয় জানিয়ে ৪ হাজার টাকার স্ট্যাম্পে নতুন করে এফিডেভিট করার কথা বলা হয়। এতে অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
অ্যাকাউন্ট পরিচালনার পদ্ধতি নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা। গ্রাহকের দাবি, প্রতিষ্ঠানের রেজোলিউশনে ‘Singly’ মোড অব অপারেশন উল্লেখ করা হলেও ব্যাংকের কর্মকর্তারা সেটি ‘Anyone’ করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে এককভাবে অ্যাকাউন্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে কার্ড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়েও শাখা থেকে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
এর মধ্যে কারেন্ট প্লাস অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া শুরু করার পর ব্যাংকের পক্ষ থেকে হঠাৎ করে অ্যাকাউন্টটি SND (Special Notice Deposit) হিসেবে খোলার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আগে ইস্যু করা চেক ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শুধু অ্যাকাউন্টের ধরন নয়, ইসলামিক ব্যাংকিং সুবিধা নিয়েও জটিলতার কথা জানিয়েছেন ফাহিম শাহরিয়ার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তিনি অ্যাকাউন্টটি ব্যাংকের ইসলামিক উইংয়ের আওতায় রেখে সুদভিত্তিক বিনিয়োগ বা প্রফিট সংক্রান্ত সুবিধা বন্ধ রাখতে চেয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে ব্যাংক কর্মকর্তারা তাঁকে কোনো সুস্পষ্ট সমাধান দিতে পারেননি।
গ্রাহকের অভিযোগ, একটি ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্ট খোলার মতো মৌলিক সেবা পেতে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ব্যাংকে যোগাযোগ করতে হয়েছে। এতে একজন উদ্যোক্তার গুরুত্বপূর্ণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মানসিক চাপও তৈরি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি সিটি ব্যাংকের শাখা ও হেল্পলাইন কর্মকর্তাদের মধ্যে সেবা ও নীতিমালা সম্পর্কে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেন।






















