বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের দাম ফের বেড়েছে। গত সোমবার লেনদেনের একপর্যায়ে বিটকয়েনের আর্থিক মূল্য আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে প্রতিটি বিটকয়েনের দাম ৮৫ হাজার ডলারের ঘর ছাড়িয়ে যায়। এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) নতুন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাজারে ঝুঁকি নেয়ার প্রবণতা ও ইতিবাচক গুঞ্জনের কারণে এ ঊর্ধ্বগতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। খবর দ্য ন্যাশনাল।
ক্রিপ্টো বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কয়েনমার্কেটক্যাপের তথ্যানুযায়ী, সোমবার বিটকয়েনের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে সর্বোচ্চ ৮৫ হাজার ২০০ ডলারে পৌঁছায়। তবে বিকালের দিকে কিছুটা সংশোধন হয়ে এটি ৮৪ হাজার ৪৭৩ ডলারে কেনাবেচা হয়। এর আগের সপ্তাহে বিটকয়েনের দর নেমে এসেছিল ৭৬ হাজার ডলারের নিচে। তবে সে ধাক্কা সামলে দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে ডিজিটাল মুদ্রাটি।
জায় ক্যাপিটাল মার্কেটসের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা নাইম আসলাম জানান, ইটিএফে শক্তিশালী অর্থ প্রবাহ এবং দরপতনের পূর্বাভাস দেয়া বিনিয়োগকারীদের অবস্থান গুটিয়ে নেয়ার (শর্ট পজিশন ক্লোজ) প্রতিযোগিতা কারণেই বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সম্প্রতি তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সুদহার বাড়িয়েছে। নীতি সুদহার বাড়লে সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগ কমে। তবে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের চাহিদায় সুদহারের চাপ অনেকটাই চাপা পড়ে গেছে।
চলতি আগস্টে এখন পর্যন্ত ক্রিপ্টোকারেন্সিটির দাম বেড়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ। এর মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের নভেম্বরের পর মাসভিত্তিক সবচেয়ে বড় দরবৃদ্ধির পথে রয়েছে বিটকয়েন।
সর্বশেষ জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে বিশ্ববাজারে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিটকয়েনের দরপতন হয়। ওই সময় ক্রিপ্টোকারেন্সির শীর্ষ টোকেনটির দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে ৬২ হাজার ৮০০ ডলারে নামে। গত বছরের শেষ দিকে বিটকয়েনের দাম রেকর্ড ১ লাখ ২৬ হাজার ডলারে উঠেছিল, ক্রমাগত বিক্রির চাপে তা নেমে আসে ৬০ হাজার ডলারের ঘরে। তবে আগস্টেই চাঙ্গা হতে শুরু করে ক্রিপ্টো বাজার।




















