চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারের বেসরকারি প্রাইম ব্যাংকের শাখা থেকে দুই গ্রাহকের ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা উধাওয়ের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরে ব্যাংকে পৃথকভাবে গিয়ে নিজেদের অ্যাকাউন্টে না থাকার বিষয়টি জানতে পারেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী দুই নারীর।
ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা হলো– ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা এলাকার মাসুদা বেগম ও কচুয়া উপজেলার সাচার এলাকার সুমি আক্তার। এরমধ্যে মাসুদা বেগমের ১ লাখ ৩১ হাজার টাকা খোয়া গেছে। সুমি আক্তার খুইয়েছেন এক লাখ ২৭ হাজার টাকা। ভুক্তভোগীদের স্বামীরা মালয়েশিয়া প্রবাসী।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, তারা দুজনই নিজেদের স্বামীর কথামতো প্রাইম ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলে লেনদেন শুরু করেন। এখন ব্যাংকে রাখা টাকা ফেরত চেয়ে পৃথক দুটো অভিযোগ দিয়েছেন তারা।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, দুই গ্রাহক চলতি জুন মাসেই নতুন হিসাব খুলেছে এবং তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশে টাকা লেনদেন হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি তারা বিকাশে টাকা নেয়নি। এমনকি ব্যাংকে দেওয়া তাদের মোবাইলফোন নম্বরে কোনো ওটিপি বা মেসেজ যায়নি।
ভুক্তভোগী মাসুদা বেগম বলেন, ‘স্বামীর কথামতো প্রাইম ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলেছি। চেক বই নিতে এসে দেখি অ্যাকাউন্টে টাকা নাই।’
সুমি আক্তার বলেন, ‘স্বামীর কথামতো ব্যাংকে টাকা চেক করতে গিয়ে দেখি অ্যাকাউন্ট শুন্য। এটা কীভাবে সম্ভব? আমার মোবাইলে কোনো প্রকার ওয়ানটাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) বা ম্যাসেজ আসেনি। আমরা টাকাগুলো ফেরত চাই।’
ব্যাংক স্ট্যাটেমেন্টে দেখা যায়, গত ২৫ জুন মাসুদা বেগমের অ্যাকাউন্ট থেকে ৭ বারে ৮০ হাজার টাকা, ২৬ জুন ৪১ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে টাকাসহ মোট ১ লাখ ২১ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সুমি আক্তারের অ্যাকাউন্ট থেকে ২৬ জুন তিনবারে ৫৫ হাজার, ২৯ জুন ৪ বারে ৭৭ হাজার টাকাসহ মোট ১ লাখ ২৭ হাজার বিকাশে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে হাজীগঞ্জ প্রাইম ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ আবু সাঈদ ভুঁইয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি।
এদিকে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, হেড অফিস থেকে লিখিত একটি বক্তব্য সংবাদকর্মীদের দেয়া হয়েছে। ওই বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাইম ব্যাংক সবসময় গ্রাহকবান্ধব নীতি অনুসরণ করে এবং দেশের প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়ম মেনে চলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে টাকা নেওয়ার ঘটনা ঘটছে, যা খুবই উদ্বেগজনক। প্রাইম ব্যাংকের হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর শাখার একজন গ্রাহকের অভিযোগ আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখছি। আমাদের সকল সম্মানিত গ্রাহকের প্রতি অনুরোধ-কোনো অবস্থাতেই কাউকে আপনার OTP, পাসওয়ার্ড বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের গোপন তথ্য শেয়ার করবেন না।






















