ডলার এনডোর্সমেন্টের মতো একটি জরুরি সেবা নিতে গিয়ে তীব্র হয়রানি এবং অব্যবস্থাপনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী ব্যাংকের এক গ্রাহক। ফারুক নামের ওই ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ ধরে ব্যাংকের চট্টগ্রাম আনোয়ারা উপজেলার চাতরী শাখায় বারবার ঘোরার পর তাকে এমন একটি কার্ডে ডলার এনডোর্স করে দেওয়া হয়েছে, যা গুগল বা ফেসবুকের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারই করা যাচ্ছে না।
এই ঘটনায় তিনি কেবল সময়ক্ষেপণ ও হয়রানির শিকার হননি, তার পাসপোর্টের একটি পাতা নষ্ট হয়েছে এবং প্রায় ৫০ হাজার টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। ব্যাংকের এমন অপেশাদার আচরণে হতাশ হয়ে তিনি তার সমস্ত অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ভোগান্তির এক সপ্তাহ: যা ঘটেছিল
ভুক্তভোগী ফারুক তার সপ্তাহব্যাপী হয়রানির একটি কালানুক্রমিক বিবরণ দিয়েছেন:
২-৩ সেপ্টেম্বর: ডলার এনডোর্সমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ব্যাংকে গেলে প্রথমে তার ভিসা কার্ডে পাসপোর্টের পাতায় সিল মারা হয়। কিন্তু সব প্রক্রিয়া শেষে কর্মকর্তা জানান, “এই ভিসা কার্ডে এনডোর্সমেন্ট হবে না।” এ তথ্য আগে না জানানোয় গ্রাহকের সময় ও পাসপোর্টের পাতা নষ্ট হয়।
৩ সেপ্টেম্বর: একই দিনে তিনি তার ইউনিয়ন পে (Union Pay) কার্ড চালু করার অনুরোধ করলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ফজলুল করিম জানান, তিনি এই কার্ডের নামই শোনেননি। অথচ ব্যাংকের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে ফারুক জানতে পারেন, কার্ডটি অ্যাকটিভ করা সম্ভব।
৪ সেপ্টেম্বর: ফজলুল করিম ছুটিতে থাকায় শাখার অন্য কর্মকর্তারা জানান, তারা এই কাজটি করতে পারবেন না, ফলে তাকে আবারও ফিরে আসতে হয়।
৮ সেপ্টেম্বর: অনেক ভোগান্তির পর অবশেষে ইউনিয়ন পে কার্ডে ডলার এনডোর্সমেন্টের জন্য আবেদন জমা নেওয়া হয়।
১১ সেপ্টেম্বর: এনডোর্সমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে জেনে তিনি গুগল/ফেসবুকে পেমেন্ট করতে গিয়ে দেখেন কার্ডটি ‘unsupported’ বা অচল। তখন ব্যাংক থেকে তাকে জানানো হয়, “এই কার্ড দিয়ে গুগল/ফেসবুকে পেমেন্ট হবে না।”
ফারুক প্রশ্ন তুলে বলেন, “যদি গুগল-ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মে পেমেন্ট করাই না যায়, তাহলে এই এনডোর্সমেন্ট কেন করা হলো? এক সপ্তাহ ধরে আমার সময়, পাসপোর্টের পাতা এবং ৫০ হাজার টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হলো কেন?”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ব্যাংকের কল সেন্টারে যোগাযোগ করলেও তাকে দীর্ঘ সময় হোল্ডে রেখে মোবাইল ফোনের ব্যালেন্স নষ্ট করা হয়েছে, কিন্তু ব্যাংক থেকে কল ব্যাক করার সৌজন্যতা দেখানো হয়নি।
ইসলামী ব্যাংকের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অজ্ঞতা এবং ব্যবস্থাপনার এমন ত্রুটিকে ‘সেবার নামে হয়রানি’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে এর জবাবদিহি চেয়েছেন।






















