Techzoom.TV
  • সর্বশেষ
  • প্রযুক্তি সংবাদ
  • টেলিকম
  • অটো
  • ফিচার
    • সোশ্যাল মিডিয়া
    • কিভাবে করবেন
  • শিক্ষা ও ক্যাম্পাস
  • অর্থ ও বাণিজ্য
No Result
View All Result
Techzoom.TV
  • সর্বশেষ
  • প্রযুক্তি সংবাদ
  • টেলিকম
  • অটো
  • ফিচার
    • সোশ্যাল মিডিয়া
    • কিভাবে করবেন
  • শিক্ষা ও ক্যাম্পাস
  • অর্থ ও বাণিজ্য
No Result
View All Result
Techzoom.TV
No Result
View All Result
ADVERTISEMENT

বিশৃঙ্খলায় গভীর সংকটে এবি ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকজুম ডটটিভি by নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকজুম ডটটিভি
বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
বিশৃঙ্খলায় গভীর সংকটে এবি ব্যাংক
Share on FacebookShare on Twitter

একসময় দেশের ব্যাংকিং খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল এবি ব্যাংক। বেসরকারি এই ব্যাংকটি এখন গভীর সংকটে নিমজ্জিত। আর পেছনে কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে–খেলাপি ঋণের পরিমাণ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়া, ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা এবং মালিকপক্ষের হস্তক্ষেপের কথা।

সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪ শতাংশে, ব্যাংকিং খাতের জন্য যাকে ধরা হয় ‘ভয়াবহ’ হিসেবে। অথচ এই সংকটকালেও গত নয় মাসে ব্যাংকটির ব্যালেন্স শিটে নতুন করে যুক্ত হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৯শ কোটি টাকার ঋণ। যেখানে ২০২৪ সালের পুরো সময়ে ঋণ বেড়েছিল ১ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা।

এবি ব্যাংকের বেশ কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, নতুন ঋণ বিতরণ বন্ধ রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া নির্দেশনা উপেক্ষা করে এবি ব্যাংক ঋণ পোর্টফোলিও বাড়িয়ে চলেছে।

এমন যখন ব্যাংকটির পরিস্থিতি তখন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র নয় মাসের মাথায় পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সৈয়দ মিজানুর রহমান। অভিযোগ উঠেছে, স্পন্সর শেয়ারহোল্ডারদের নিয়ন্ত্রণে থাকা পরিচালনা পর্ষদের চাপের মুখে তাকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে।

বিশ্লেষকেরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, পাঁচটি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করার চলমান পরিকল্পনায় এবি ব্যাংককে কেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি? ব্যাংকটির অনাদায়ী ঋণের হার একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা শরিয়াভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে দুটির চেয়েও বেশি।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান একীভূতকরণ পরিকল্পনা কেবল শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলোর জন্যই প্রযোজ্য। সে কারণেই এই দলে পড়েনি এবি ব্যাংক।

বিগত সরকারের আমলের ব্যাংক দখলের সংস্কৃতি থেকে বেরোতে পারেনি এবি ব্যাংক। চাপে থাকার কথা জানিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, ‘যা চাপ আসছে আমি সেটার সঙ্গে কমফোর্টেবল না। উল্টাপাল্টা প্রেসার আসছে।’

সৈয়দ মিজানুর রহমান অনেকটা আক্ষেপ করে বলেন, ‘ব্যংকটির যত খারাপ ঋণ আছে এর বেশিরভাগের পেছনে ফয়সাল মোরশেদ খান রয়েছেন। যে কারণে এগুলো আদায়ও করতে পারছি না।’

ফয়সাল মোরশেদ খান হলেন ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বিএনপি সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খানের ছেলে। ২০০১ সালে মোরশেদ খান মন্ত্রী হলে ব্যাংকের চেয়ারম্যান হন ফয়সাল। এরপর ২০০৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদে ছিলেন তিনি।

বর্তমানে পর্ষদের চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন এই ব্যাংকেরই সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার এ চৌধুরী। তিনি ফয়সাল খানের পারিবারিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মিলেনিয়াম হোল্ডিংয়ের মনোনিত ব্যক্তি হিসেবে পর্ষদে এসেছেন।

তার পর্ষদে আসা প্রসঙ্গে ফয়সাল মোরশেদ খান বলেন, ‘ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তাকে স্বতন্ত্র পরিচালক করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধিনিষেধ থাকায় তাকে আমাদের একটি প্রতিষ্ঠানের নমিনি হিসেবে পর্ষদে পাঠানো হয়েছে।’

পর্ষদে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমে মোরশেদ খান পরিবারের হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ উঠে এসেছে ব্যাংকটির জ্যেষ্ঠ অনেক কর্মকর্তার বক্তব্যে।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রতিদিন নতুন ঋণের জন্য কাউকে না কাউকে পাঠাচ্ছে। আমি প্রতিদিনই এসব ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু একটা চাপ তো রোজ থাকেই।’

‘এটা নিয়ে আবার প্রতিনিয়ত ফয়সাল সাহেবকে ব্যাখ্যা করতে হয়, কেন ঋণ দিলাম না। প্রতিদিনতো কাউকে বোঝাতে পারব না, তাই না?’

বর্তমানে এবি ব্যাংকের প্রায় ২৮ শতাংশ শেয়ার ফয়সাল খানের পরিবারের ও পারিবারিক প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে রয়েছে।
অবশ্য ব্যাংকে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন ফয়সাল মোরশেদ খান। তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন, ‘আমি দেশের বাইরে আছি। ১২ হাজার মাইল দূরে থেকে ব্যাংকে প্রভাব বিস্তার করা আদৌ কতটা সম্ভব?’

ব্যবসায়িক ও পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে ব্যংকের পর্ষদে আসতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শেয়ারহোল্ডার হিসেবে আমার অধিকার আছে বোর্ডের সদস্য হওয়ার। কিন্তু ব্যাংকে সময় দেওয়া সম্ভব না। তাই পর্ষদে আসতে চাই না।’

এই খাতের দক্ষ লোকদের দিয়ে এবি ব্যাংকের পর্ষদ সাজানোর পরিকল্পনার কথা জানান ফয়সাল খান।
বর্তমান চেয়ারম্যানের প্রসঙ্গে ফয়সাল মোরশেদ বলেন, ‘বিগত সরকারের পতনের পর আমরা দক্ষ লোকদের পর্ষদে বসিয়েছি। ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত আমি যখন চেয়ারম্যান ছিলাম তখন কাইজার চৌধুরী এমডি পদে ছিলেন। আমরা একসঙ্গে কাজ করে ২৮ নাম্বার সিরিয়ালে থাকা ব্যাংককে দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যাংকে পরিণত করেছিলাম।’

মিজানুর রহমানের এমডি পদ ছাড়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফয়সাল মোরশেদ বলেন, ‘আমাদের ব্যাংকে যোগ দেওয়ার আগেই তার মেঘনা ব্যাংকে যাওয়ার কথা ছিল। শুনেছি তিনি ঢাকা ব্যাংকেও যেতে চাইছেন। যদিও আমার কাছে বিষয়টি স্বীকার করেননি তিনি।।’

ঋণ বৃদ্ধির অঙ্ক অস্বাভাবিক
ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনায় যখন চলছে অস্থিরতা, তখন অস্বাভাবিক হারে বিতরণকৃত ঋণ বেড়েছে। দেশের প্রথম এই বেসরকারি ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ হিসাবে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এসে মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ৩৫ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মোট ঋণ ছিল ৩৩ হাজার ৮৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে নয় মাসে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ।

অথচ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ঋণ বেড়েছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, আগের বছর বেড়েছিল মাত্র ১ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘নতুন ঋণ ছাড়া পরিমাণ এত বাড়ার সুযোগ নেই। কারণ, সুদ বেড়ে যেমন ঋণ বাড়ে ঠিক তেমনি আদায়ের মাধ্যমে ঋণের পরিমাণ কমে।’

আলোচ্য সময়ে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ঋণ আদায়ের কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান। ঋণ আদায়ের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে ব্যাংকটির ব্যালেন্স শিটেও। চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বরের তুলনায় ৩০ সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমেছে ১৪৯ কোটি টাকা। একই সময়ে মোট ঋণ কমেছে ৭ দশমিক ৩৭ কোটি টাকা। পাশাপাশি এক দিনের ব্যবধানে ব্যাংকটি আমানত হারিয়েছে ৩১৫ কোটি টাকা।

নতুন ঋণ বিতরণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন মহাখালী শাখার ব্যবস্থাপক চৌধুরী এএনএম আলী বেগ।  তিনি বলেন, ‘আমাদের ঋণ দিতে কোন সমস্যা হচ্ছে না। তবে রিটেইল লোন বেশি দিচ্ছি। করপোরেট ঋণে ধীর যাচ্ছি।’

যদিও ব্যাংকটির আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় গত বছরের আগস্ট থেকেই নতুন ঋণ বিতরণ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

মহাখালী শাখা থেকে সম্প্রতি ট্রান্সকম অটো নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ৪০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের বিষয়ে জানতে পেরেছে। অবশ্য বিষয়টি অস্বীকার করেছেন শাখা ব্যবস্থাপক।

ঋণের পরিমাণ বাড়ার ব্যাখ্যা দিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, ‘কিছু ঋণ আগে নন-ব্যাংকিং অ্যাসেট হিসেবে ব্যাংকের সম্পদের তালিকায় যুক্ত ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনার কারণে অ্যাসেট কমিয়ে ঋণের হিসাব বেশি দেখাতে হচ্ছে।’

নতুন কোন ঋণ দেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এমনকি আমরা ডেফার্ড এলসি দিচ্ছি না। শুধু সাইট এলসি দেওয়া হচ্ছে এবং পুরনো গ্রাহকদের সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। হাবিজাবি ঋণ পুরোপুরি বন্ধ।’

খেলাপিতে বিপর্যস্ত এক সময়ের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্যাংকটি
খেলাপি ঋণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের এক সময়কার শীর্ষস্থানীয় এবি ব্যাংক। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে মোট খেলাপি দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১৪৩ কোটি টাকায়, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৮৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ। নয় মাস আগে এই পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ২৭৯ কোটি টাকা, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ছিল ৩০ শতাংশ, টাকার অঙ্কে যা ৯ হাজার ৫১৪ কোটি।

ব্যাংকটির ঋণের ৫৬ শতাংশই শীর্ষ ২০ গ্রাহকের কাছে কেন্দ্রীভূত।
খেলাপি বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যান ফয়সাল মোরশেদ বলেন, ‘নতুন দেওয়া ঋণগুলো খারাপ হচ্ছে না। আগের ঋণগুলো দিন দিন খারাপ হওয়ায় খেলাপি বাড়ছে। এ ছাড়া আগের খেলাপির সুদ যোগ হয়ে পরিমাণ বাড়ছে।’

গত কয়েক বছরে ব্যাপক লুটপাটের কারণে ২০২৪ সালে রেকর্ড লোকসান করেছে একসময় ২০০ শতাংশ পর্যন্ত ডিভিডেন্ড দেওয়া ব্যাংকটি। এবি ব্যাংকের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালে সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২১ টাকা ২৮ পয়সা। ফলে গত বছর ব্যাংকটির লোকসান হয়েছে ১ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা। ২০২৩ সালে ব্যাংকটির মুনাফা হয়েছিল ৯০ কোটি টাকা।

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংকটির শেয়ারমূল্য ফেস ভ্যালুর নিচে রয়েছে। ৬ অক্টোবর প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬ দশমিক ১০ টাকায়।

এবি ব্যাংকের ভবিষ্যৎ
করপোরেট অনাচার ও লুটপাটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া এবি ব্যাংক নেই বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ফাস্ট ট্র্যাক সংস্কার প্রকল্পে’। বর্তমানে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪৮ শতাংশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৬২ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ৯৫ শতাংশ, ইউনিয়ন ব্যাংকের ৯৮ শতাংশ ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ খেলাপি।

এগুলোর মধ্যে এক্সিম ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরও মোটামুটি ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল বলে স্বীকার করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তবে চলতি বছরের ৯ এপ্রিল গভর্নর আহসান এইচ মনসুর শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো একীভূত করার কথা বললে আমানতকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

গত ৪ জুন একীভূতকরণের পরিকল্পনায় থাকা পাঁচ ব্যাংকের নাম বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রকশিত হয়ে পড়লে এগুলোর ক্যাশ কাউন্টারে আতঙ্কিত আমানতকারীদের দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি হয়।

এক্সিম ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের তুলনায় খারাপ অবস্থায় থাকার পরও এখন পর্যন্ত এবি ব্যংক একীভূত করার পরিকল্পনায় নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

তিনি বলেন, ‘এবি ব্যাংকের খেলাপি বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রভিশন ও মূলধন ঘাটতি বাড়বে। স্পন্সররা নতুন করে মূলধন সরবরাহ না করলে তারল্য সংকটে পড়বে ব্যাংকটি। ঋণ পুনঃতফসিল ও আদায় জোরদার না করে তবে অদূর ভবিষ্যতে এবি ব্যাংক নিয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।’

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ এম মাসরুর রিয়াজ মনে করেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিবেচনা থেকেই এই পাঁচটি ব্যাংক একীভূতকরণের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই পাঁচটির মধ্যে চারটি ব্যাংক এস আলমের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং প্রায় সব তহবিলই বাইরে পাচার করা হয়েছিল। এই ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের আস্থাহীনতায় ভুগছিল। এখন একীভূতকরণ প্রক্রিয়া হয়ত সেটি কিছুটা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।’

তবে তিনি এটাও বলেন যে, এই পাঁচটির বাইরেও আরও অনেক ব্যাংক ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে, যেগুলোর প্রতিকার এখন জরুরি।

স্পন্সরদের পক্ষ থেকে নতুন মূলধন সরবরাহের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সাবেক ফয়সাল মোরশেদ। তিনি বলেন, ‘নতুন মূলধন যোগানোর জন্য স্পন্সররা প্রস্তুত আছে। এটা নিয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে।’

ব্যাংকের ভবিষ্যৎ কী?
এবি ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮২ সালের ১২ এপ্রিল। ১৯৮৩ সালেই এটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়। সেবায় উৎকর্ষ ঘটিয়ে একসময় গ্রাহক আকর্ষণে অন্যতম সেরা হয়ে উঠেছিল ব্যাংকটি। এর নেপথ্যে ছিলেন কর্মকর্তারা। কিন্তু পরে শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনিয়ম-দুর্নীতি এবং উদ্যোক্তাদের অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কারণে ব্যাংকটির আর্থিক সূচক ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।

ব্যাংকটির ইতিহাস তুলে ধরে ফয়সাল খান বলেন, ‘২০০১ সালে আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পরে পরিবারের লোকদের সরিয়ে পেশাদার ব্যক্তিদের দিয়ে বোর্ড গঠন করি। আমাদের নেতৃত্বে ২০০৭ সালে ২০০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল এবি ব্যাংক, যা ব্যাংক খাতে বিরল।’

তাহলে কেন ব্যাংকটির এই অবস্থা তা জানতে চাইলে ফয়সাল খান বলেন, ‘আমি পর্ষদ থেকে চলে যাওয়ার পরে শীর্ষ পদগুলোতে দক্ষ লোকদের সরিয়ে অদক্ষ লোকদের নিয়োগ দেওয়া হয়। তারা তাদের পরিচিত খারাপ গ্রাহকদের নিয়ে এসে ব্যাংকের এই পরিস্থিতি করেছে।’

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এবি ব্যাংক এম মোরশেদ খানের পরিবারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। বিএনপির এই সাবেক রাজনীতিক তার একমাত্র কন্যাকে বিয়ে দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা ব্যবসায়ী সালামন এফ রহমানের একমাত্র ছেলের সঙ্গে। বর্তমানে ৮৭ বছর বয়সী মোরশেদ খান বার্ধক্যে ন্যুব্জ থাকায় তার একমাত্র ছেলে ফয়সাল মোরশেদ খানই পারিবারিক ব্যবসা দেখভাল করছেন।

ফয়সাল খান দায়িত্ব ছাড়ার পরে তাদের পরিবারের পক্ষে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন ওয়াহিদুল হক, যিনি এই পরিবারের মালিকানাধীন চা-বাগানের পরিচালক ছিলেন। এরপর সাবেক ডেপুটি গভর্নর মোহাম্মদ এ আলীও তাদের প্রতিনিধি হিসেবে ব্যাংকের চেয়ারম্যান হন।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খায়রুল আলম চৌধুরীও দীর্ঘদিন চেয়ারম্যান ছিলেন। এরা সবাই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন।

ব্যাংকটির বর্তমান নেতৃত্ব সম্পর্কে ফয়সাল মোরশেদ বলেন, ‘আমি চলে যাওয়ার পরে যাদেরকে ব্যাংক থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, এমন কিছু ভালো লোককে বলেছি তোমরা ব্যাংকের হাল ধরো।’

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের কিছু বিভাগ এখন ভয়াবহ অবস্থায় আছে, যেগুলো দ্রুত সমাধানের প্রয়োজন।

Tags: এবি ব্যাংক

এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন

ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি
অর্থ ও বাণিজ্য

ইস্টার্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড থেকে ১,৩০৯ ডলার ‘গায়েব’, গ্রাহকের অভিযোগ

সারাদেশে দারাজের চলছে  ফ্যানমিট
ই-কমার্স

সারাদেশে দারাজের চলছে ফ্যানমিট

ওয়ালটনের ফ্রিজ কিনে ৫ লাখ টাকা পেলেন বেকার যুবক
ছাড় ও অফার

ওয়ালটনের ফ্রিজ কিনে ৫ লাখ টাকা পেলেন বেকার যুবক

রপ্তানি বন্ধ, বাংলাদেশ সীমান্তে পচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
অর্থ ও বাণিজ্য

রপ্তানি বন্ধ, বাংলাদেশ সীমান্তে পচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ

হুয়াওয়ে ডিভাইস কিনে হ্যান্ডসেট ও ওয়াচ জিটি-২ সহ নিশ্চিত পুরস্কার
ছাড় ও অফার

হুয়াওয়ে ডিভাইস কিনে হ্যান্ডসেট ও ওয়াচ জিটি-২ সহ নিশ্চিত পুরস্কার

ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের যুক্ত হতে চাই ইভ্যালি: রাসেল
ই-কমার্স

ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের যুক্ত হতে চাই ইভ্যালি: রাসেল

Load More

ট্রেন্ডিং টপিক

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার গতি কমছে
বিবিধ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার গতি কমছে

কেন রণতরী ছেড়ে উপসাগরীয় মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাল ইরান? নেপথ্যে ৫টি সামরিক কৌশল
বিবিধ

কেন রণতরী ছেড়ে উপসাগরীয় মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাল ইরান? নেপথ্যে ৫টি সামরিক কৌশল

এমডব্লিউসি ২০২৬ এ বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রগতি তুলে ধরছে বাংলালিংক
টেলিকম

এমডব্লিউসি ২০২৬ এ বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রগতি তুলে ধরছে বাংলালিংক

চালডাল ডটকম-এর ‘নৈরাজ্য’: ৪ মাস বেতনহীন ৬০০ কর্মী, আইটি পার্কে কর্মবিরতি
ই-কমার্স

চালডাল ডটকম-এর ‘নৈরাজ্য’: ৪ মাস বেতনহীন ৬০০ কর্মী, আইটি পার্কে কর্মবিরতি

সপ্তাহের সবচেয়ে পঠিত

বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সুরক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: সিমেন্সে বাংলাদেশি প্রকৌশলীর নতুন দিগন্ত

বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সুরক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: সিমেন্সে বাংলাদেশি প্রকৌশলীর নতুন দিগন্ত

২০২৬ সালে ১০ হাজার টাকার মধ্যে সেরা ৫ স্মার্টফোন

২০২৬ সালে ১০ হাজার টাকার মধ্যে সেরা ৫ স্মার্টফোন

১০ হাজার টাকার মধ্যে ভিভো মোবাইল 2024

১০ হাজার টাকার মধ্যে ভিভো মোবাইল 2024

সেবা এক্সওয়াইজেড-এর সিইও আদনান ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা: ১৮ লাখ টাকা কর ফাঁকির অভিযোগ

সেবা এক্সওয়াইজেড-এর সিইও আদনান ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা: ১৮ লাখ টাকা কর ফাঁকির অভিযোগ

ADVERTISEMENT

সর্বশেষ সংযোজন

তিন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ফ্রি ওয়াইফাই চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
নির্বাচিত

তিন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ফ্রি ওয়াইফাই চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিনামূল্যে ওয়াইফাই ইন্টারনেট সেবা...

মোটোরোলার চমক, বাজারে এল বুক-স্টাইল ফোল্ডেবল ফোন

মোটোরোলার চমক, বাজারে এল বুক-স্টাইল ফোল্ডেবল ফোন

ইরানি ড্রোনের আঘাতে বিধ্বস্ত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন

ইরানি ড্রোনের আঘাতে বিধ্বস্ত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন

অ্যাপল ইভেন্ট আজ: নজর কাড়বে কম দামের ম্যাকবুক ও সাশ্রয়ী আইফোন ১৭ই

অ্যাপল ইভেন্ট আজ: নজর কাড়বে কম দামের ম্যাকবুক ও সাশ্রয়ী আইফোন ১৭ই

মাসের সবচেয়ে পঠিত

স্টার টেকের ৯২ হাজার টাকার ল্যাপটপ নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড: চরম হয়রানির শিকার ক্রেতা

স্টার টেকের ৯২ হাজার টাকার ল্যাপটপ নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড: চরম হয়রানির শিকার ক্রেতা

ইফতারে কোন জায়গায় বিরিয়ানি দিবে জানতে ‘ইফতার ও বিরিয়ানি ট্র্যাকার’

ইফতারে কোন জায়গায় বিরিয়ানি দিবে জানতে ‘ইফতার ও বিরিয়ানি ট্র্যাকার’

অ্যান্ড্রয়েড ১৬-এর ‘অ্যাডভান্সড প্রটেকশন’ মোড কী?

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের সর্বোচ্চ ১০০ ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে গুগল

মন্ত্রিসভায় শপথের জন্য ডাক পেলেন যারা

মন্ত্রিসভায় শপথের জন্য ডাক পেলেন যারা

ADVERTISEMENT
Facebook Twitter Instagram Youtube
Techzoom.TV

টেকজুম প্রথম বাংলা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক ২৪/৭ মাল্টিমিডয়া পোর্টাল। প্রায় ১৫ বছর ধরে টেকজুম বিশ্বস্ত ডিজিটাল মিডিয়া প্রকাশনা হিসেবে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং ফিনটেক সংক্রান্ত নানা বিস্তৃত বিষয় কভার করেছে। এটি বিশ্বব্যাপী বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে ডিজিটাল মিডিয়া প্রকাশনাটি। বিস্তারিত পড়ুন

সম্পাদক ও প্রকাশক:

মো. ওয়াশিকুর রহমান

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ

নিউজরুম
+88017 98 07 99 88
+88016 23 844 776
ই-মেইল: techzoom.tv@gmail.com

সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং
+88017 41 54 70 47
ই-মেইল: techzoom.tv@gmail.com

স্বত্ব © ২০২৪ টেকজুম | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed and Maintained by Team MediaTix

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রযুক্তি সংবাদ
  • টেলিকম
  • অটো
  • ফিচার
    • সোশ্যাল মিডিয়া
    • কিভাবে করবেন
  • শিক্ষা ও ক্যাম্পাস
  • অর্থ ও বাণিজ্য

স্বত্ব © ২০২৪ টেকজুম | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed and Maintained by Team MediaTix