ঢাকা জেলার মানুষের মাথাপিছু আয় এখন ৫ হাজার ১৬৩ মার্কিন ডলার, যা দেশের গড় মাথাপিছু আয়ের প্রায় দ্বিগুণ। দেশের মোট জিডিপির ৪৬ শতাংশই ঢাকাকেন্দ্রিক এবং মোট কর্মসংস্থানের ৪০ শতাংশ রাজধানীতে—এ তথ্য উঠে এসেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) প্রণীত ইকোনমিক পজিশন ইনডেক্সে (ইপিআই)।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সূচকের তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি তাসকিন আহমেদ। এতে অর্থনীতিবিদ, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী। তিনি জানান, দেশের শহুরে জনসংখ্যার ৩২ শতাংশের বসবাস ঢাকায়, যা মোট জনসংখ্যার ১১ দশমিক ২ শতাংশ। দেশের মোট রপ্তানির ৪০ শতাংশ আসে ঢাকা জেলা থেকে, আর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রায় সাড়ে সাতশ কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ও ঢাকায় অবস্থিত।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের গড় মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮২০ ডলার। এর তুলনায় ঢাকার মাথাপিছু আয় প্রায় দ্বিগুণ। ডিসিসিআই জানায়, ২০১১ সালের জেলা ভিত্তিক জিডিপি তথ্য ও হালনাগাদ অর্থনৈতিক সূচক বিশ্লেষণ করে এই হিসাব অনুমান করা হয়েছে।
তবে ঢাকার জিডিপি ও আয়ের এই অনুমাননির্ভর তথ্যের সীমাবদ্ধতা নিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন অংশগ্রহণকারী প্রশ্ন তোলেন।
ইপিআই সূচক চালুর উদ্যোগ
ডিসিসিআই জানায়, দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে প্রতি তিন মাস অন্তর ইপিআই সূচক প্রকাশ করা হবে। এতে শিল্প ও সেবাখাতের কর্মক্ষমতা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক আস্থার পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হবে।
সভায় তাসকিন আহমেদ বলেন, “বর্তমানে জিডিপি বা ইজ অব ডুইং বিজনেসের মতো সূচক থাকলেও সেগুলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রকৃত পরিবর্তন প্রতিফলিত করে না। ইপিআই সূচক নীতিনির্ধারকদের বাস্তব সময়ের তথ্য দিতে সহায়ক হবে।”
প্রাথমিকভাবে ছয়টি খাতকে সূচকের আওতায় আনা হয়েছে—তৈরি পোশাক, বস্ত্র, পাইকারি ও খুচরা বিক্রয়, আবাসন, পরিবহন ও সংরক্ষণ এবং ব্যাংক খাত।
অর্থনীতি ‘ভালো গতিতে’
ইপিআইর প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, গত বছরের অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে ঢাকা জেলার অর্থনীতি ‘ভালো গতিতে’ ছিল। এ সময় সূচক স্কোর দাঁড়ায় শূন্য দশমিক ৮০। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে অর্থনীতির গতি বাড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, “দেশীয় সূচকে অর্থনীতি ভালো দেখালেও বৈশ্বিক সূচকে আমরা এখনো পিছিয়ে। তাই ইপিআইয়ের তথ্য বৈশ্বিক মানদণ্ডে তুলনামূলকভাবে প্রকাশ করা জরুরি।”
আরেক সাবেক সভাপতি আশরাফ আহমেদ প্রস্তাব করেন, ইপিআই সূচক মাসিক ভিত্তিতে প্রকাশ এবং এর পরিধি ধীরে ধীরে সারাদেশে সম্প্রসারিত করা উচিত।





















