পারস্য উপসাগরীয় দেশ বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আমাজনের ডেটা সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কোনো বস্তু আঘাত হানার পর এই আগুনের সূত্রপাত হয় বলে সোমবার জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই হামলার ঘটনা ঘটলেও আমাজন সরাসরি কাউকে দায়ী করেনি।
আমাজনের ক্লাউড ইউনিটের এই ডেটা সেন্টারগুলো বর্তমানে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও সংযোগ সমস্যায় ভুগছে। গত সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি ফিজিক্যাল ক্লাস্টার পুরোপুরি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। তবে চলমান ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সঙ্গে এই ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা স্পষ্ট করে জানায়নি আমাজন।
প্রযুক্তি বিশ্লেষক শানাকা আনসলেম পেরেরা এক্স-এ জানান, আমাজন ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষকে ‘বস্তু’ হিসেবে অভিহিত করছে। কারণ যুদ্ধের সময় কোনো বড় ক্লাউড সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ডেটা সেন্টারে হামলার মতো পরিস্থিতির বর্ণনায় উপযুক্ত শব্দের অভাব রয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ লুকাস ওলেইনিক এই মতের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, ‘ডেটা সেন্টারে বস্তুর আঘাত—এটি বিশেষ সামরিক অভিযানের পর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সবচেয়ে নমনীয় বর্ণনা।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইতিহাসে এই প্রথম ব্যালিস্টিক কারণে কোনো অ্যাভেইলেবিলিটি জোন অকেজো হয়ে পড়ল।’
ওলেইনিক জানান, শনিবার দিবাগত রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আমাজনের ডেটা সেন্টারটি পুরোপুরি অফলাইনে চলে যায়। আমাজনের ক্লাউড সহযোগী প্রতিষ্ঠান আমাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস) ব্যবহারকারীদের অগ্নিকাণ্ডের কথা জানালেও ঠিক কী ধরনের বস্তু সেখানে আঘাত হেনেছে তা স্পষ্ট করেনি।
তুরস্কের আনাদোলু বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষজ্ঞ এবং সোডিমারের প্রতিষ্ঠাতা লেভেন্ট এরসলান জানান, আমাজনের অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা এটাই প্রমাণ করে যে যুদ্ধ এখন সামরিক ক্ষেত্রের বাইরে ডিজিটাল অবকাঠামোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে ডেটা সেন্টার, ক্লাউড সিস্টেম এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্কগুলো জ্বালানি কেন্দ্র বা সামরিক ঘাঁটির মতোই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’
এরসলান আরও বলেন, ‘এই ধরনের পদক্ষেপকে মার্কিন প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর বিরুদ্ধে একটি অপ্রতিসম সাইবার শক্তির বার্তা হিসেবে দেখা হবে।’ ডিজিটাল যুগে ডেটা এবং অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ যুদ্ধের অন্যতম অদৃশ্য কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্ট বলেও মন্তব্য করেন তিনি।





















