দেশের ই-কমার্স খাতের অন্যতম শীর্ষ নীতি-নির্ধারক এবং ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) টানা পাঁচ মেয়াদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমালের বিরুদ্ধে এবার কর ফাঁকির বড় অভিযোগ সামনে এসেছে। সরকারের বকেয়া রাজস্ব আদায়ে এবার তাঁর সব ধরনের ব্যাংক হিসাব ও লেনদেন জব্দের (ফ্রিজ) কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
প্রাপ্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আয়কর আইন, ২০২৩ এর ২২১ ধারা (যা সাবেক আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ১৪৩ ধারা) অনুযায়ী এই ক্রোক আদেশ জারি করা হয়েছে। সাধারণত কোনো করদাতা কর ফাঁকি দিলে কিংবা বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় বকেয়া কর পরিশোধ না করলে এনবিআর এই চূড়ান্ত আইনি পদক্ষেপ নেয়।
সরকারি খাতা-কলমে মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমালের কাছে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের পাওনা বকেয়া আয়করের পরিমাণ ৯,৩৮,৩৪০/- (নয় লাখ আটত্রিশ হাজার তিনশত চল্লিশ) টাকা।
এনবিআরের চিঠিতে বলা হয়েছে, করদাতার নামে বা যৌথ নামে ব্যাংকের অধীনস্থ যেকোনো শাখায় থাকা সব ধরনের চলতি, সঞ্চয়ী, মেয়াদি বা অন্য যেকোনো হিসাব অবিলম্বে অবরুদ্ধ করতে হবে। শুধু হিসাব জব্দই নয়, বর্তমানে তাঁর অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা কিংবা পরবর্তীতে যেকোনো জমা থেকে এই বকেয়া ৯ লাখ ৩৮ হাজার ৩৪০ টাকা কেটে সরাসরি কর অফিসে চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে আইনি বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।
মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল ২০১৪ সাল থেকে টানা ১০ বছর ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিভিন্ন সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক-বাজেট আলোচনায় ই-কমার্স খাতের কর অবকাশ ও সাধারণ উদ্যোক্তাদের কর কমানোর দাবি নিয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
সংশ্লিষ্ট খাতের সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, যিনি নিজে বছরের পর বছর সরকারের ভ্যাট-ট্যাক্স পলিসি নিয়ে ই-ক্যাবের হয়ে এনবিআরের সাথে দেনদরবার করেছেন, তাঁর নিজের কর নথিতেই লাখ টাকার রাজস্ব বকেয়া থাকা এবং সেই কারণে ব্যাংক হিসাব জব্দ হওয়া চরম দায়িত্বহীনতা ও নৈতিকতা স্খলনের শামিল।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ই-কমার্স খাতে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেছিলেন আব্দুল ওয়াহেদ তমাল। ই-কমার্স খাতের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও নীতি নির্ধারণে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। তবে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ সাধারণ উদ্যোক্তাদের তীব্র ক্ষোভ ও চাপের মুখে তৎকালীন সভাপতি শমী কায়সার এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমালসহ কার্যনির্বাহী কমিটি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
এছাড়াও, তমালের মালিকানাধীন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন সরকারি অনুদান ও প্রজেক্টের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতার অভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এবারের ব্যাংক হিসাব জব্দের ঘটনাটি তাঁর পূর্বের সেই বিতর্কগুলোকে আরও উসকে দিল।





















