স্মার্টফোনের বৈশ্বিক লড়াইয়ে এক অভাবনীয় মোড় এসেছে। দীর্ঘ ১৪ বছর পর প্রথমবারের মতো দক্ষিণ কোরিয়ান জায়ান্ট স্যামসাংকে টপকে বিশ্বের এক নম্বর স্মার্টফোন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মুকুট পুনরুদ্ধার করেছে অ্যাপল। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের (Counterpoint Research) ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
বাজার দখল ও প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অ্যাপলের স্মার্টফোন সরবরাহ আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারের ২০ শতাংশ এখন অ্যাপলের দখলে। অন্যদিকে, স্যামসাংয়ের সরবরাহ ৫ শতাংশ বাড়লেও তাদের বাজার শেয়ার ছিল ১৯ শতাংশ, যার ফলে তারা দ্বিতীয় অবস্থানে নেমে এসেছে।
বাজার শেয়ারের সংক্ষিপ্ত চিত্র:
অ্যাপল: ২০%
স্যামসাং: ১৯%
শাওমি: ১৩%
ভিভো ও অপো: ৮% (উভয়ই)
সাফল্যের নেপথ্যে ‘আইফোন ১৭’ ও উদীয়মান বাজার
কাউন্টারপয়েন্টের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক বরুণ মিশ্রা জানিয়েছেন, উদীয়মান ও মাঝারি আয়ের বাজারগুলোতে (বিশেষ করে ভারত, জাপান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া) অ্যাপলের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় আইফোনের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে সদ্য অবমুক্ত হওয়া আইফোন ১৭ সিরিজ দারুণ সাড়া ফেলেছে। এর পাশাপাশি বাজেট-সচেতন ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে বাজারে আসা আইফোন ১৬ই মডেলটি অ্যাপলের এই শীর্ষস্থান দখলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
স্যামসাংয়ের অবস্থান ও প্রিমিয়াম সেগমেন্ট
শীর্ষস্থান হারালেও স্যামসাংয়ের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ছিল। মাঝারি দামের ‘এ’ সিরিজের পাশাপাশি প্রিমিয়াম বাজারে গ্যালাক্সি এস২৫ সিরিজ এবং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৭ মডেলগুলো তাদের অবস্থান ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্যামসাং এখন পরিমাণ (Quantity) বাড়ানোর চেয়ে লাভজনকতা (Profitability) বৃদ্ধিতে বেশি মনোযোগী।
আসছে ফোল্ডেবল আইফোন ও ট্রাইফোল্ড গ্যালাক্সি
বাজার দখলের এই প্রতিযোগিতা ২০২৬ সালে আরও তীব্র হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরেই অ্যাপল তাদের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন (iPhone Fold) উন্মোচন করে ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বাজারে প্রবেশ করবে।
অন্যদিকে, স্যামসাং তাদের আধিপত্য পুনরুদ্ধারে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্বের প্রথম গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড (Galaxy Z TriFold) ফোনটি বিশ্ববাজারে ছাড়ার। ইতিমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে ট্রাইফোল্ড মডেলটি অবমুক্ত হওয়ার পর তা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
উপসংহার: অ্যাপলের ২০ শতাংশ বাজার দখল প্রমাণ করে যে বৈশ্বিক প্রিমিয়াম স্মার্টফোন বাজারে অ্যাপলের ইমেজ ও কৌশল বর্তমানে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তবে ২০২৬ সালে নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং চিপসেটের সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে এই শীর্ষস্থানের লড়াইয়ে পুনরায় রদবদল হতে পারে।






















