স্মার্টফোনের পর এবার টেক ওয়ার্ল্ডের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ শুরু হয়েছে আমাদের হাতের ল্যাপটপ আর ডেস্কটপ পিসি নিয়ে। সাধারণ কম্পিউটারের দিন ফুরিয়ে এখন পিসি বাজারের রাজত্ব চলে গেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর দখলে। বর্তমান ২০২৬ সালের বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী— মাইক্রোসফট, কোয়ালকম, ইন্টেল এবং এএমডি’র মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ও চিপ নির্মাতা জায়ান্টগুলো তাদের নতুন প্রজন্মের ‘এআই-সমৃদ্ধ’ ল্যাপটপ নিয়ে এক চুলচেরা প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
নির্মাতাদের এই তীব্র লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দু এখন উইন্ডোজের Copilot+ PC এবং ইন্টারনেটের সাহায্য ছাড়া কম্পিউটারের ভেতরেই কাজ করতে সক্ষম ‘অন-ডিভাইস এআই’ (On-Device AI) প্রযুক্তি।
কম্পিউটার ইন্ডাস্ট্রির এই মেগা টেক-ওয়ারের ভেতরের খবরগুলো চলুন এক নজরে জেনে নেওয়া যাক:
মাইক্রোসফটের বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী, একটি কম্পিউটারকে অফিশিয়াল ‘Copilot+ PC’র তকমা পেতে হলে তার প্রসেসরে অবশ্যই একটি শক্তিশালী ডেডিকেটেড এনপিইউ বা নিউরাল প্রসেসিং ইউনিট (NPU) থাকতে হবে, যা ন্যূনতম ৪০ TOPS (Trillions of Operations Per Second) ক্ষমতা সম্পন্ন।
এই এআই পিসিগুলোর মূল ম্যাজিক হলো—এরা ক্লাউড বা ইন্টারনেটের ওপর নির্ভর না করে ল্যাপটপের ভেতরেই রিয়েল-টাইম ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রান্সলেশন, স্মার্ট কন্টেন্ট ক্রিয়েশন, অ্যাডভান্সড ইমেজ এডিটিং এবং লাইভ ক্যাপশনের মতো ভারী এআই টাস্কগুলো চোখের পলকে করে ফেলতে পারে। এর ফলে ডেটা প্রাইভেসী যেমন শতভাগ সুরক্ষিত থাকে, তেমনি ল্যাপটপের ল্যাটেন্সি বা রেসপন্স টাইম কমে আসে জিরো-তে।
ল্যাপটপের প্রসেসর বা সিলিকন বাজারে এখন চলছে তীব্র প্রতিদ্বন্দিতা:
কোয়ালকম (Qualcomm): আর্ম (Arm) আর্কিটেকচারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি তাদের ‘Snapdragon X’ সিরিজের প্রসেসরগুলো দিয়ে কোয়ালকম মূলত উইন্ডোজ ল্যাপটপে অ্যাপলের মতন অবিশ্বাস্য ব্যাটারি লাইফ এবং শক্তিশালী এনপিইউ পারফরম্যান্স অফার করছে। ২০২৬ সালের শুরুতে আসা তাদের নতুন চিপগুলো খরচ ও পারফরম্যান্সের দিক থেকে বেশ এগিয়ে।
ইন্টেল (Intel): বাজার ধরে রাখতে ইন্টেল নিয়ে এসেছে তাদের ‘লুনার লেক’ (Lunar Lake) আর্কিটেকচারের প্রসেসর, যাতে রয়েছে শক্তিশালী ৪৮-TOPS ক্ষমতাসম্পন্ন এনপিইউ। করপোরেট ও বিজনেস ল্যাপটপের বাজারে ইন্টেল এখনও তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে।
এএমডি (AMD): গেমার এবং পারফরম্যান্স লাভারদের জন্য এএমডি বাজারে এনেছে তাদের ‘Ryzen AI 300’ সিরিজ। মাত্র ৭০০ ডলার বা তার কম বাজেটের ল্যাপটপগুলোতেও তারা ৫০ TOPS এনপিইউ পারফরম্যান্স দিয়ে এআই পিসিকে সাধারণ ক্রেতাদের হাতের নাগালে নিয়ে এসেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালে এআই পিসির জোয়ারে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে মেমোরি বা র্যামের (DRAM) সাপ্লাই চেইনে। উইন্ডোজ ১১-এর কোপাইলট+ ফিচারের জন্য ন্যূনতম ১৬ জিবি র্যাম (16GB RAM) বাধ্যতামূলক করায় বিশ্ববাজারে কম্পিউটার র্যামের দাম প্রায় ১০% থেকে ৩০% পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
এই খরচের চাপ সামলাতে এবং অ্যাপলের ৮ জিবি র্যামের ‘ম্যাকবুক নিও’ (MacBook Neo)-এর সাথে টেক্কা দিতে মাইক্রোসফট এবং ল্যাপটপ ব্র্যান্ডগুলো (যেমন লেনোভো, এইচপি, ডেল) এখন এমন এআই মডেল বা ‘এজেন্ট’ তৈরির দিকে ঝুঁকছে, যা কম র্যাম বা সাধারণ জিপিইউ (GPU)-তেও অন-ডিভাইস এআই রান করতে পারে। অর্থাৎ, কোপাইলট+ পিসির সেই কঠোর হার্ডওয়্যার নিয়মগুলো এখন কিছুটা শিথিল হতে শুরু করেছে।




















