স্মার্টফোনের বাজারে যন্ত্রাংশের দাম বাড়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। মেমোরি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কয়েকটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোনের দাম বাড়িয়েছে। ফলে বাজেটের মধ্যে ভালো প্রসেসর, উন্নত ডিসপ্লে, বড় ব্যাটারি ও পর্যাপ্ত মেমোরির সমন্বয়ে স্মার্টফোন কেনা আগের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠেছে।
তবে প্রথমবার স্মার্টফোন কিনতে চান, অনলাইন ক্লাস করেন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, ভিডিও দেখা ও দৈনন্দিন কাজের জন্য ফোন খুঁজছেন—এমন ক্রেতাদের জন্য বাজারে এখনো কিছু বিকল্প রয়েছে।
Mivi, Poco, Motorola ও Realme-র পাঁচটি স্মার্টফোনে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন সুবিধা। কোনোটি বড় ব্যাটারিতে এগিয়ে, কোনোটি ডিসপ্লে ও বিনোদনে, আবার কোনোটি ক্যামেরা, ডিজাইন ও স্থায়িত্বের দিক থেকে আকর্ষণীয়। দেখে নেওয়া যাক ফোনগুলোর বৈশিষ্ট্য।
১. Mivi One 5G: বড় ব্যাটারি ও স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর
Mivi One 5G-তে রয়েছে Qualcomm Snapdragon 4 Gen 2 প্রসেসর। দৈনন্দিন অ্যাপ ব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন ক্লাস এবং হালকা গেমিংয়ের জন্য এই চিপসেট উপযোগী হতে পারে।
ফোনটির অন্যতম আকর্ষণ ৬ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি। বড় ব্যাটারির কারণে দীর্ঘ সময় চার্জ ধরে রাখার সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। এতে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা এবং ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লেও রয়েছে।
RAM-এর একাধিক সংস্করণ থাকায় ক্রেতারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিতে পারবেন। তবে দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকলে বেশি RAM-এর সংস্করণ নেওয়া সুবিধাজনক হতে পারে।
প্রধান স্পেসিফিকেশন
ডিসপ্লে: ৬.৭৫ ইঞ্চি HD+ LCD, ১২০Hz
প্রসেসর: Qualcomm Snapdragon 4 Gen 2
RAM ও স্টোরেজ: ৪/৬/৮GB RAM, ১২৮GB
ক্যামেরা: ৫০ মেগাপিক্সেল
ব্যাটারি: ৬,০০০mAh
চার্জিং: ১৮W
রং: Blue, Burgundy, Dark Blue, Green ও Pink
২. Poco M7 Pro: বিনোদন ও দ্রুত চার্জিংয়ে এগিয়ে
বিনোদনমূলক ব্যবহারের জন্য Poco M7 Pro একটি আকর্ষণীয় বিকল্প। এতে MediaTek Dimensity 7025 Ultra প্রসেসর ও ৬ অথবা ৮ জিবি RAM রয়েছে। ফলে সাধারণ মাল্টিটাস্কিং, ভিডিও দেখা ও হালকা গেমিংয়ের ক্ষেত্রে ভালো অভিজ্ঞতা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফোনটির ৬.৬৭ ইঞ্চি FHD+ ডিসপ্লেতে ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট রয়েছে। সর্বোচ্চ ২,১০০ নিটস উজ্জ্বলতার সুবিধা থাকায় উজ্জ্বল পরিবেশেও স্ক্রিন দেখা সহজ হওয়ার কথা।
অডিও অভিজ্ঞতার জন্য এতে রয়েছে স্টেরিও স্পিকার ও Dolby Atmos সমর্থন। পাশাপাশি ৫,১১০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারিতে ৪৫ ওয়াট দ্রুত চার্জিং সুবিধা রয়েছে। যারা নিয়মিত ভিডিও দেখেন কিংবা ফোনে বিনোদনমূলক কনটেন্ট উপভোগ করেন, তাঁদের জন্য এসব ফিচার বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
প্রধান স্পেসিফিকেশন
ডিসপ্লে: ৬.৬৭ ইঞ্চি FHD+ LCD, ১২০Hz
প্রসেসর: MediaTek Dimensity 7025 Ultra
RAM ও স্টোরেজ: ৬/৮GB RAM, ১২৮/২৫৬GB
ক্যামেরা: ৫০ মেগাপিক্সেল
ব্যাটারি: ৫,১১০mAh
চার্জিং: ৪৫W
রং: Lavender Frost, Lunar Dust ও Olive Twilight
৩. Moto G64: ডিজাইন ও আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরায় বাড়তি সুবিধা
Motorola Moto G64-এর অন্যতম আকর্ষণ এর ভেগান লেদার ফিনিশের পেছনের অংশ। এটি ফোনটিকে সাধারণ প্লাস্টিকের ব্যাক প্যানেলের তুলনায় আলাদা নকশা ও লুক দিতে পারে।
ফোনটিতে রয়েছে ৬.৭২ ইঞ্চি FHD+ LCD ডিসপ্লে, ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট এবং Unisoc T760 প্রসেসর। দৈনন্দিন ব্যবহার ও সাধারণ অ্যাপ পরিচালনায় এই প্রসেসর উপযোগী হতে পারে।
ক্যামেরার ক্ষেত্রে ফোনটিতে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান সেন্সরের সঙ্গে ৮ মেগাপিক্সেলের আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা রয়েছে। ফলে সাধারণ ছবি তোলার পাশাপাশি বিস্তৃত দৃশ্য ধারণের সুযোগ মিলবে। সুরক্ষার জন্য রয়েছে Gorilla Glass 3 ও IP52 রেটিং। স্টেরিও স্পিকারের সঙ্গে Dolby Atmos সমর্থনও রয়েছে।
প্রধান স্পেসিফিকেশন
ডিসপ্লে: ৬.৭২ ইঞ্চি FHD+ LCD, ১২০Hz
প্রসেসর: Unisoc T760
RAM ও স্টোরেজ: ৪/৮GB RAM, ১২৮GB
ক্যামেরা: ৫০MP + ৮MP আলট্রা-ওয়াইড
ব্যাটারি: ৫,০০০mAh
চার্জিং: ১৮W
রং: Guava Red, Leaf Green ও Midnight Black
৪. Realme C100i: ব্যাটারি ব্যাকআপে বিশেষ গুরুত্ব
যাঁদের কাছে স্মার্টফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাঁদের জন্য Realme C100i বিবেচনায় রাখার মতো একটি মডেল। এতে রয়েছে ৬,৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের বড় ব্যাটারি এবং ৪৫ ওয়াট দ্রুত চার্জিং সুবিধা।
ফোনটিতে ৬.৭৪ ইঞ্চি HD+ LCD ডিসপ্লে ও ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট রয়েছে। প্রসেসর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে Unisoc T7250। দৈনন্দিন ব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাধারণ কাজের জন্য এটি উপযোগী হতে পারে।
তবে ফোনটির একটি সীমাবদ্ধতা হলো এতে ৫জি নেটওয়ার্ক সুবিধা নেই। এটি ৪জি নেটওয়ার্কে কাজ করে। ক্যামেরাতেও তুলনামূলকভাবে কম রেজল্যুশনের সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। তাই ব্যাটারি ব্যাকআপকে অগ্রাধিকার দেওয়া ক্রেতাদের জন্য ফোনটি বেশি উপযোগী।
প্রধান স্পেসিফিকেশন
ডিসপ্লে: ৬.৭৪ ইঞ্চি HD+ LCD, ১২০Hz
প্রসেসর: Unisoc T7250
RAM ও স্টোরেজ: ৪GB RAM, ৬৪/১২৮GB
ক্যামেরা: ৮ মেগাপিক্সেল
ব্যাটারি: ৬,৫০০mAh
চার্জিং: ৪৫W
নেটওয়ার্ক: 4G
রং: Skyline Silver ও Midnight Black
৫. Moto G37: সুরক্ষা ও অডিও ফিচারে নজর
Motorola Moto G37-এর অন্যতম আকর্ষণ এর সুরক্ষা ব্যবস্থা। ফোনটিতে IP64 রেটিং এবং ডিসপ্লের সুরক্ষায় Gorilla Glass 7i ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি Vegan Leather, Fabric ও Glass Back—বিভিন্ন ধরনের ফিনিশের বিকল্প থাকার কথা রয়েছে।
ফোনটিতে ৬.৬৭ ইঞ্চি HD+ LCD ডিসপ্লে ও ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট রয়েছে। পারফরম্যান্সের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে MediaTek Dimensity 6400 প্রসেসর।
অডিওর জন্য রয়েছে স্টেরিও স্পিকার ও Dolby Atmos সমর্থন। এতে ৫,২০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি থাকলেও চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফোনটি ২০ ওয়াট চার্জিং সমর্থন করলেও বক্সে ১০ ওয়াটের চার্জার সরবরাহ করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধান স্পেসিফিকেশন
ডিসপ্লে: ৬.৬৭ ইঞ্চি HD+ LCD, ১২০Hz
প্রসেসর: MediaTek Dimensity 6400
RAM ও স্টোরেজ: ৪GB RAM, ৬৪GB
ক্যামেরা: ৫০ মেগাপিক্সেল
ব্যাটারি: ৫,২০০mAh
চার্জিং: ২০W সমর্থন, বক্সে ১০W চার্জার
রং: Pantone Nautical Blue, Pantone Capri ও Pantone Impenetrable
কোন ফোনটি কেনার আগে কী বিবেচনা করবেন?
বাজেটের স্মার্টফোন কেনার সময় শুধু প্রসেসর বা ক্যামেরার মেগাপিক্সেল দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ব্যাটারি ব্যাকআপ: দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে হলে Mivi One 5G ও Realme C100i-এর বড় ব্যাটারি বিবেচনায় রাখা যেতে পারে।
বিনোদন: ভিডিও দেখা, গান শোনা ও সাধারণ গেমিংয়ের জন্য Poco M7 Pro-এর FHD+ ডিসপ্লে, স্টেরিও স্পিকার ও দ্রুত চার্জিং আকর্ষণীয়।
ক্যামেরা: বিস্তৃত দৃশ্য ধারণের প্রয়োজন হলে Moto G64-এর আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
স্থায়িত্ব ও সুরক্ষা: পানি ও ধুলাবালির সংস্পর্শে ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে IP রেটিং এবং ডিসপ্লে সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। Moto G37 এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় থাকতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার: সম্ভব হলে ৪ জিবি RAM-এর পরিবর্তে ৬ বা ৮ জিবি RAM-এর সংস্করণ বেছে নেওয়া ভালো। পাশাপাশি সফটওয়্যার আপডেটের প্রতিশ্রুতি, স্টোরেজ এবং বিক্রয়োত্তর সেবাও যাচাই করা জরুরি।
সবশেষে, কেনার আগে ফোনগুলোর বর্তমান বাজারদর, অফিসিয়াল ও আনঅফিশিয়াল সংস্করণ, ওয়ারেন্টি এবং নির্দিষ্ট কনফিগারেশন যাচাই করে নেওয়া উচিত। বাজেটের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফোন নির্ভর করবে ক্রেতার ব্যবহার ও অগ্রাধিকারের ওপর।





















