গরমের সময় ফ্রিজের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। ফলে অনেক সময় ফ্রিজ থেকে অস্বাভাবিক শব্দ, অতিরিক্ত বরফ জমা কিংবা ঠান্ডা কম হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সব সমস্যার জন্য সঙ্গে সঙ্গে মেকানিক ডাকতে হয় না। কিছু বিষয় নিজে পরীক্ষা করে প্রাথমিক সমাধান করা সম্ভব।
ফ্রিজ সমতল জায়গায় রাখুন
ফ্রিজ অসম জায়গায় থাকলে কম্প্রেসার চালুর সময় অতিরিক্ত কম্পন তৈরি হতে পারে। এতে ঘড়ঘড় বা কাঁপুনির শব্দ শোনা যায়। ফ্রিজটি সমতল অবস্থায় আছে কি না পরীক্ষা করুন। প্রয়োজন হলে এর নিচের পা সমন্বয় করে ভারসাম্য ঠিক করতে হবে।
এ ছাড়া ফ্রিজ দেয়ালের একেবারে সঙ্গে লাগিয়ে রাখা উচিত নয়। পেছনে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে গরম বাতাস সহজে বের হতে পারে এবং কম্প্রেসারের ওপর চাপও কমে। সাধারণভাবে দেয়াল থেকে কয়েক ইঞ্চি ফাঁকা রাখা ভালো।
কনডেন্সার কয়েল পরিষ্কার রাখুন
ফ্রিজের পেছনে থাকা কনডেন্সার কয়েলে ধুলা জমলে তাপ অপসারণের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এতে ফ্রিজকে বেশি সময় কাজ করতে হয়, বিদ্যুৎ খরচ বাড়তে পারে এবং অতিরিক্ত শব্দও হতে পারে।
পরিষ্কার করার আগে অবশ্যই ফ্রিজের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। এরপর শুকনো কাপড় বা উপযুক্ত ব্রাশ দিয়ে জমে থাকা ধুলা পরিষ্কার করা যেতে পারে।
ফ্রিজারে অতিরিক্ত বরফ জমেছে কি না দেখুন
ফ্রিজারের ভেতরে অতিরিক্ত বরফ জমে গেলে ফ্যানের ব্লেডে তা ঘষা লেগে অস্বাভাবিক শব্দ হতে পারে। একই সঙ্গে ঠান্ডা বাতাস চলাচলেও বাধা তৈরি হয়।
এ ক্ষেত্রে ফ্রিজের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বরফ স্বাভাবিকভাবে গলতে দিতে হবে। বরফ দ্রুত গলানোর জন্য ধারালো ধাতব বস্তু দিয়ে খোঁচানো বা সরাসরি গরম পানি ঢালা উচিত নয়। এতে ফ্রিজারের ভেতরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কম্প্রেসারের শব্দ হলে সতর্ক থাকুন
পুরোনো ফ্রিজে কম্প্রেসারের মাউন্ট বা ফিটিং ঢিলে হয়ে গেলেও কম্পনের শব্দ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ফ্রিজ চালু বা বন্ধ হওয়ার সময় ধাতব অংশে ধাক্কার মতো শব্দ শোনা গেলে বিষয়টি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
তবে কম্প্রেসারের বৈদ্যুতিক বা যান্ত্রিক অংশ নিজে খুলে মেরামত করার চেষ্টা না করাই নিরাপদ। প্রয়োজন হলে দক্ষ টেকনিশিয়ানের সহায়তা নেওয়া উচিত।
ফ্যান ও আশপাশে কোনো বাধা আছে কি না দেখুন
ফ্রিজের ভেতর বা পেছনের ফ্যানের আশপাশে কোনো বস্তু আটকে আছে কি না পরীক্ষা করা যেতে পারে। ফ্যান চলার সময় কোনো কিছুর সঙ্গে ঘর্ষণ হলে অস্বাভাবিক শব্দ তৈরি হতে পারে।
কখন মেকানিক ডাকবেন
ফ্রিজ পরিষ্কার ও অবস্থান ঠিক করার পরও শব্দ চলতে থাকলে, ফ্রিজ ঠান্ডা না করলে, কম্প্রেসার অতিরিক্ত গরম হলে, পোড়া গন্ধ বের হলে কিংবা বারবার নিজে থেকে বন্ধ হয়ে গেলে সমস্যা গুরুতর হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে নিজে মেরামতের চেষ্টা না করে দক্ষ টেকনিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন এবং সঠিকভাবে ফ্রিজ ব্যবহারের মাধ্যমে অনেক সাধারণ সমস্যা এড়ানো যায়। এতে ফ্রিজের কর্মক্ষমতা ঠিক থাকার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচও কমানো সম্ভব।





















