আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। তবে একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের ‘গণভোট’ নিয়ে জনমনে এখনো রয়ে গেছে বিশাল ধোঁয়াশা। রাজনৈতিক দলগুলো সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরব থাকলেও ১১ দফা সংস্কার প্রস্তাব সম্বলিত এই গণভোট নিয়ে তাদের প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে চরম অনীহা। ফলে সংস্কার আর নাগরিক অধিকারের প্রশ্নটি দলীয় রাজনীতির আবর্তে ঢাকা পড়ে গেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, গণভোটের মূল ১১টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৭টি বিষয় সম্পর্কেই সাধারণ মানুষ অবগত নন। এমনকি গুগল বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) মতো প্রযুক্তিগুলোও চার দফার সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরছে, যেখানে ১১ দফার পূর্ণাঙ্গ চিত্র অনুপস্থিত। এই তথ্য বিভ্রাট সোশ্যাল হ্যান্ডেলগুলোতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দ্বিধা ও বিভ্রান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
১১ দফা সংস্কারের তালিকায় তিন নম্বরে রয়েছে একটি যুগান্তকারী প্রস্তাব: “মৌলিক অধিকার হিসেবে ইন্টারনেট সেবা কখনো বন্ধ না করা”। বিগত সময়ে ‘ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট’-এর ধৃষ্টতা যাতে কোনো সরকার আর দেখাতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই এই সংস্কারের লক্ষ্য।
ইন্টারনেট পেশাজীবী এবং ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের বড় একটি অংশ এই প্রস্তাবের পক্ষে থাকলেও গণভোট নিয়ে তাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এক সময়ের ই-কমার্স নেতা বলেন, “রাজনীতি আর সংস্কার মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়ায় অনেকেই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন।” অন্যদিকে, ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের দাবি—ব্যবসায়িক স্বার্থে তারা সংস্কার চান, কিন্তু এখনো কোনো এসোসিয়েশন এই নিয়ে ঐক্যবদ্ধ কোনো আলোচনা করেনি।
রাজধানীর ভাটারা এলাকার মুদি দোকানদার বিপ্লব মিয়ার মতো সাধারণ মানুষের কাছে গণভোটের ১১ দফা এখনো একটি দুর্বোধ্য বিষয়। তার কাছে সংস্কারের চেয়ে বড় আকর্ষণ হলো বহু বছর পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়া। তিনি বলেন, “গণভোট শুনি কিন্তু বুঝি না। তবে এইবার ভোট দিবার পারুম, এইডাতেই খুশী।”
গণভোট নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যে সক্রিয় হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে বিশেষ লিফলেট প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার্থে দুটি ডোমেইন চালু করা হয়েছে: ১. https://gonovote.bd ২. https://gonovote.gov.bd
রাজনৈতিক দলগুলোর কুণ্ঠাবোধ এবং তথ্যের ঘাটতি থাকলেও, ভবিষ্যতে ডিজিটাল স্বৈরাচার ও ইন্টারনেট বন্ধের হাত থেকে মুক্তি পেতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের গুরুত্ব এখন শিক্ষিত সমাজে আলোচিত হচ্ছে। ১১ দফা সংস্কারের সুফলগুলো তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছাতে না পারলে এই ঐতিহাসিক গণভোটের মূল লক্ষ্য ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।






















