প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে নিজেদের সক্ষমতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো তুরস্কের সরকারি সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রকেটসান (ROKETSAN)। প্রতিষ্ঠানটি সফলভাবে তাদের তৈরি ‘TAYFUN Block-3’ ব্যালিস্টিক মিসাইলের লাইভ-ফায়ার পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। এই পরীক্ষার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো, মিসাইলটি সমুদ্রের বুকে চলমান একটি ড্রোন জাহাজকে (Unmanned Surface Vessel) নিখুঁতভাবে আঘাত করে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।
সাধারণ ব্যালিস্টিক মিসাইল বনাম TAYFUN Block-3
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরীক্ষাটি বিশ্ব সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সাধারণত প্রচলিত ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো কেবল মাত্র নির্দিষ্ট বা স্থির লক্ষ্যবস্তুতেই (Fixed Targets) আঘাত হানতে পারে। তবে তুরস্ক এই প্রথম সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি একটি বিশেষ ‘সিকার হেড’ (টার্মিনাল গাইডেন্স সেন্সর) এই মিসাইলটিতে যুক্ত করেছে।
এই অত্যাধুনিক সেন্সরের কল্যাণে মিসাইলটি সমুদ্রের যেকোনো চলমান লক্ষ্যবস্তুকে রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করতে পারে। লাইভ-ফায়ারে এটি সমুদ্রের বুকে ভাসমান মাত্র ৭ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ছোট বোট আকৃতির চলমান ড্রোন লক্ষ্যবস্তুকে সফলভাবে চিহ্নিত করে গুঁড়িয়ে দেয়।
হাইপারসনিক গতি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ
TAYFUN Block-3 মিসাইলটি তার যাত্রার শেষ ধাপে (Terminal Phase) হাইপারসনিক গতিতে অর্থাৎ শব্দের চেয়ে অন্তত ৫ গুণেরও বেশি দ্রুত লক্ষ্যবস্তুর দিকে অগ্রসর হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অতিমানবীয় গতির কারণে বর্তমান বিশ্বের প্রচলিত কোনো নৌ-আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (Naval Air Defense Systems) পক্ষে একে মাঝ-আকাশে ট্র্যাক করা বা প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন।
অ্যান্টি-শিপ ব্যালিস্টিক মিসাইলের এলিট ক্লাবে তুরস্ক
এই সফল পরীক্ষার মাধ্যমে তুরস্ক তাদের প্রথাগত সারফেস-টু-সারফেস (ভূমি থেকে ভূমি) ব্যালিস্টিক মিসাইলটিকে একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-শিপ (জাহাজ বিধ্বংসী) অস্ত্রে রূপান্তর করতে সক্ষম হলো। এর ফলে তুরস্ক বিশ্বের এমন এক এলিট দেশের তালিকায় নিজেদের নাম লেখালো, যাদের কাছে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘অ্যান্টি-শিপ ব্যালিস্টিক মিসাইল’ বা ASBM রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে রকেটসান তাদের TAYFUN মিসাইলের Block-1 এবং Block-2 সংস্করণগুলোর পরীক্ষা চালালেও সেগুলো ছিল মূলত স্থলভাগের স্থির লক্ষ্যবস্তুর জন্য। তবে নতুন এই Block-3 সংস্করণটিকে বিশেষভাবে সমুদ্রসীমায় চলমান শত্রু জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবহারের উপযোগী করেই তৈরি করা হয়েছে।

















