ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোর সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচগুলোর একটিতে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও আফ্রিকার শক্তিশালী দল মিশর। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে হবে এই বহুল প্রতীক্ষিত লড়াই, যেখানে বিশ্ব ফুটবলের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও মোহামেদ সালাহ থাকবেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে মাঠে নামবে, আর মিশর চাইবে ইতিহাস গড়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে নাটকীয় জয় আর্জেন্টিনার
শেষ ৩২-এর ম্যাচে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দের বিপক্ষে সহজ জয়ই প্রত্যাশা করা হয়েছিল আর্জেন্টিনার। কিন্তু বাস্তবে ম্যাচটি হয়ে ওঠে দারুণ কঠিন।
দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরে আসে কেপ ভার্দে এবং ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। শেষ পর্যন্ত ১১১ মিনিটে ডিওনি বোর্হেসের আত্মঘাতী গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার দাপটও অব্যাহত রয়েছে। ৯০ মিনিটের পর গড়ানো ১২টি ম্যাচের মধ্যে ১০টিতেই জয় পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তারা এখন টানা আট ম্যাচ জিতেছে এবং প্রতিটি জয়েই অন্তত দুই গোল করেছে। উত্তর আমেরিকায় চলমান বিশ্বকাপে চার ম্যাচে ইতোমধ্যে ১১ গোল করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ইতিহাস গড়েই শেষ ষোলোতে মিশর
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে মিশর। ৯২ বছর পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে ফেরাউনরা।
টাইব্রেকারে শতভাগ সফল ছিল মিশর। অধিনায়ক মোহামেদ সালাহর দুর্দান্ত পানেঙ্কা কিক ছিল ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ। তবে রক্ষণভাগ নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে, কারণ টানা ছয় ম্যাচে অন্তত একটি করে গোল হজম করেছে তারা।
প্রথমবার বিশ্বকাপে মেসি বনাম সালাহ
আর্জেন্টিনা ও মিশরের একমাত্র আগের দেখায় ২০০৮ সালের প্রীতি ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে চোটের কারণে খেলতে পারেননি লিওনেল মেসি।
তবে এবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন মেসি ও সালাহ। ফলে ম্যাচটি ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের কঠিন ম্যাচ খেলার পর কিছুটা ক্লান্ত আর্জেন্টিনা শিবির। নাহুয়েল মোলিনা, এনজো ফার্নান্দেজ ও ফাকুন্দো মেদিনা পূর্ণ অনুশীলন করতে পারেননি। যদিও মেদিনার সমস্যাকে গুরুতর মনে করা হচ্ছে না। প্রয়োজন হলে তার জায়গায় খেলতে পারেন নিকোলাস তাগলিয়াফিকো।
এদিকে নিকো গনসালেসের গোড়ালির চোট নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।
শেষ ম্যাচে নতুন রেকর্ডও গড়েছেন মেসি। তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুটি আলাদা বিশ্বকাপে সাতটি করে গোল করার কীর্তি গড়েছেন। পাশাপাশি নকআউট পর্বে সর্বাধিক ১২টি গোলে অবদান রাখার রেকর্ডও নিজের নামে লিখিয়েছেন।
মিশরের রক্ষণভাগে রয়েছে একাধিক দুশ্চিন্তা। বাঁ-প্রান্তের ডিফেন্ডার করিম হাফেজ পুরোপুরি ফিট নন। আহমেদ ফাতুহও চোটের কারণে অনিশ্চিত। এছাড়া সেন্টার-ব্যাক মোহামেদ আবদেলমোনেমের খেলাও নিশ্চিত নয়।
তবে হলুদ কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মিডফিল্ডার মোহানাদ লাশিন দলে ফিরছেন।
সম্ভাব্য একাদশ
আর্জেন্টিনা: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ; মোলিনা, রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, মেদিনা; ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার; লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্টিনেজ, আলমাদা।
মিশর: শোবেইর; হানি, ফাতি, ইব্রাহিম, রাবিয়া; আশুর, লাশিন, আতেয়া, জিকো; মোহামেদ সালাহ, ওমর মারমুশ।
ম্যাচ প্রেডিকশন
মিশরের রক্ষণভাগ পুরো টুর্নামেন্টেই ভঙ্গুর ছিল। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা ধারাবাহিকভাবে একাধিক গোল করছে এবং আক্রমণভাগ দারুণ ছন্দে রয়েছে। ফলে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদেরই এগিয়ে রাখা হচ্ছে।
সম্ভাব্য ফলাফল: আর্জেন্টিনা ৩-১ মিশর।
কোথায় দেখবেন আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচ?
আর্জেন্টিনা বনাম মিশরের ম্যাচটি সরাসরি উপভোগ করা যাবে Sportzfy এবং Cricfy TV অ্যাপের মাধ্যমে। এছাড়া ফেসবুকে “Argentina vs Egypt Live Match today” লিখে সার্চ করলেও লাইভ সম্প্রচারের বিভিন্ন উৎস খুঁজে পেতে পারেন সমর্থকরা।
ম্যাচ শুরু: বাংলাদেশ সময় ৭ জুলাই রাত ১০:০০টা।





















