পদ্মা সেতুর ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থাপনা নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৬ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ইটিসির মাধ্যমে মোট ১০ কোটি ৮ লাখ ২৪ হাজার ৬০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। একই সঙ্গে ইটিসিতে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ১ হাজার ৮-এ পৌঁছেছে।
সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পরিষেবাটি চালুর পর থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত মোট ৫৬ হাজার ৪০৬টি যানবাহন ক্যাশলেস পদ্ধতিতে টোল পরিশোধ করে নির্বিঘ্নে পদ্মা সেতু অতিক্রম করেছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতায় পরিচালিত এই ব্যবস্থা দেশের সড়ক অবকাঠামোকে ডিজিটাল ও ক্যাশলেস ব্যবস্থায় রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। সরকারের লক্ষ্য, ম্যানুয়াল টোল আদায়ের পরিবর্তে দেশের সব প্রধান সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে ও টানেলে একক ও অভিন্ন ডিজিটাল টোল ব্যবস্থা চালু করা।
সচিবের প্রতিক্রিয়া
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, ইটিসির মাধ্যমে ১০ কোটির বেশি টোল আদায় এবং এক হাজারের বেশি যানবাহনের নিবন্ধন কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি দেশের পরিবহন ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর, স্মার্ট ও ক্যাশলেস করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
তিনি বলেন, আধুনিক স্বয়ংক্রিয় টোল ব্যবস্থা বাস্তবায়নে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রযুক্তি অংশীদার, পরিবহন মালিক ও সেতু ব্যবহারকারীদের সহযোগিতা এই সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করেছে।
যেভাবে ইটিসি ব্যবহার করবেন
সেতু ব্যবহারকারীরা ট্যাপ (TAP), বিকাশ, নগদ, উপায় এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই টোল পরিশোধ করতে পারেন। বর্তমানে ট্রাস্ট ব্যাংকের ট্যাপ অ্যাপ, মিডল্যান্ড ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের অ্যাপ থেকেও ইটিসি সেবা পাওয়া যাচ্ছে।
নিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট অ্যাপের ‘D-Toll’ অপশনে গিয়ে মোটরযানের নম্বর এবং চেসিস নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর D-Toll Top-Up সেবার মাধ্যমে ব্যালেন্স রিচার্জ করে প্রথমবার পদ্মা সেতুর মাওয়া টোল প্লাজার নিবন্ধন বুথ বা টোল বুথে গিয়ে বিআরটিএ অনুমোদিত আরএফআইডি (RFID) ট্যাগ যাচাই করলেই নিবন্ধন সম্পন্ন হবে।
একবার নিবন্ধন শেষ হলে একই আরএফআইডি ট্যাগ ব্যবহার করে ভবিষ্যতে ইটিসি লেন দিয়ে কোনো অতিরিক্ত নিবন্ধন ছাড়াই সেতু পারাপার করা যাবে।
সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়
ইটিসি লেনে চলাচলকারী যানবাহনকে টোল প্লাজায় থামতে হয় না। প্রায় ৬০ কিলোমিটার গতিসীমার মধ্যেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল কেটে নেওয়া হয়। এতে অপেক্ষার সময় কমে যায়, ঈদসহ ব্যস্ত সময়ে যানজট হ্রাস পায় এবং অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ কমে।
সেতু কর্তৃপক্ষের মতে, যানবাহনের স্টপ-অ্যান্ড-গো কমে যাওয়ায় কার্বন নিঃসরণও হ্রাস পাচ্ছে, যা পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
জনপ্রিয় হচ্ছে ইটিসি
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী বিভিন্ন পরিবহন প্রতিষ্ঠান—ইমাদ পরিবহন, দোলা পরিবহন, সার্বিক পরিবহন ও গোল্ডেন লাইন পরিবহনসহ অনেক বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত যানবাহনের মালিক ইতোমধ্যে ইটিসি ব্যবস্থায় নিবন্ধন করে নিয়মিত এই সেবা ব্যবহার করছেন।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আশা করছে, পদ্মা সেতুর এই ডিজিটাল টোল মডেল ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য প্রধান সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে ও টানেলেও সম্প্রসারণ করা হবে। একই সঙ্গে সব পরিবহন মালিককে দ্রুত ইটিসিতে নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


















