সোশ্যাল মিডিয়ার সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বহুদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে বিশেষজ্ঞ ও অভিভাবক মহলে। এরই মধ্যে নতুন এক গবেষণা জানাচ্ছে, এসব প্লাটফর্ম বেশি ব্যবহার করলে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। খবর ইন্ডিয়া টুডে।
একদল গবেষক কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার শিশুর ওপর নজর রাখার পর দেখেছেন, প্রায়ই স্ক্রল করা এবং বারবার নোটিফিকেশন দেখা শুধু ক্ষতিকর অভ্যাস নয়, বরং এডিএইচডির মতো লক্ষণ বাড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি করে।
এডিএইচডি বা ‘অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার’ হলো মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা। এর ফলে মানুষের মধ্যে মনোযোগের ঘাটতি ও অতিরিক্ত চঞ্চলতার প্রবণতা দেখা দেয়।
সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটি যৌথভাবে গবেষণাটি পরিচালনা করেছে। এক্ষেত্রে শিশুরা বিভিন্ন ডিজিটাল কার্যক্রমে কতটা সময় ব্যয় করছে তা পর্যবেক্ষণ করেছেন গবেষকরা।
বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের নিচের শিশুদের জন্য সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করেছে অস্ট্রেলিয়া। এর মধ্যেই গবেষণাটির ফলাফল সামনে এল।
যৌথ এ গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, শিশুরা প্রতিদিন টেলিভিশন বা অনলাইন ভিডিও দেখে গড়ে আড়াই ঘণ্টা; সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে দেড় ঘণ্টা ও ভিডিও গেম খেলে দেড় ঘণ্টা। তবে এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারই মনোযোগের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ছিল।
গবেষকেরা বলছেন, ভিডিও গেম খেলা বা টিভি দেখার সঙ্গে শিশুদের মনোযোগ কমে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ সব ধরনের স্ক্রিন টাইম একইভাবে প্রভাব ফেলে না। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সঙ্গে শিশুদের মনোযোগ নষ্ট হওয়ার প্রবণতা বাড়ার সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি।
তারা বলছেন, একজন শিশুর ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব খুব বেশি নাও দেখা যেতে পারে। কিন্তু যখন অনেক শিশু একইভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে, তখন সামগ্রিকভাবে এর প্রভাব গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।
কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক অধ্যাপক টরকেল ক্লিংবার্গ বলছেন, অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমের তুলনায় সোশ্যাল মিডিয়া শিশুদের আলাদা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। নোটিফিকেশন, মেসেজ ও নতুন আপডেটের ধারাবাহিক প্রবাহ শিশুদের বিকাশমান মস্তিষ্ককে বারবার ব্যাহত করে, ফলে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে শিশুদের মনোযোগে প্রভাব ফেলে মূলত সোশ্যাল মিডিয়াই। এমনকি কোনো মেসেজ আসার “প্রত্যাশাও’’ তাদের মনে বিভ্রান্তি তৈরির জন্য যথেষ্ট। ফলে পড়াশোনা বা অন্য কাজে মনোযোগ সরে যেতে পারে।’






















